১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুবাইয়ে নাসার নজরুলের সম্পদের ‘সন্ধান পেয়েছে’ সরকার

সম্পত্তি বিক্রি করে কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নজরুলের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ নিতে বলেছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

দুবাইয়ে নাসার নজরুলের সম্পদের ‘সন্ধান পেয়েছে’ সরকার
দুদকের মামলায় আদালতে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 11:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

দুবাইয়ে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের খেজুর বাগান ও রিসোর্টের সন্ধান পাওয়ার কথা বলছে সরকার। 

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্লট ও ফ্ল্যাটের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০০ বিঘা জমি থাকার কথাও বলা হয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে।  

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় নাসা গ্রুপের মালিক, মালিকের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে পাওয়া সম্পত্তির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

দেশের শ্রম ও ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনার এ সভায় শ্রম উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী , বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আব্দুল হাফিজ এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন। 

শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা না হলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাসা গ্রুপের মালিক, মালিকের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে।’’

প্রতিবেদনে যেসব সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে—

>> দুবাইয়ে খেজুর বাগান এবং দুবাই রিসোর্ট;

>> গুলশান ১ এ ১২ তলার দুটি ভবন;

>> পূর্বাচলে পরিবারের সদস্যদের নামে ২০টি প্লট ও আড়াই বিঘা জমিতে হাসপাতাল;

>> ৩০০ ফুট এলাকায় ল্যান্ডস্কেপিং করা দুই বিঘা জমি;

>> মেয়ে আনিকার নামে একাধিক প্লট;

>> মেঘনা ঘাটে একটি ওয়ার হাউজ ও পেট্রল পাম্প;

>> ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০০ বিঘা জমি;

>> শান্তা মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে প্রায় ১০ বিঘা জমি;

>> চাঁদপুরে একটি মার্কেট;

>> ঢাকার নিকেতনে ১০ বিঘা জমি;

>> হাতিরঝিল প্রকল্পে বড় দুইটি খেজুরের ডিপো 

>> মহাখালী ডিওএইচএসে মসজিদের পাশে ১০ কাঠা জমিতে বাসা;

>> এক্সিম ব্যাংকে ২৪ কোটি টাকা মূল্যের প্রভিডেন্ড ফান্ড;

>> গুলশান ১ এ ‘দখল করা’ বাসা;

>> গুলশানে ৭১ নম্বর প্লটে এক বিঘা জমি;

>> জলসিড়ির ১৭ নম্বর সেক্টরে আড়াই বিঘা জমিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মার্কেট;

>> জলসিড়ির ২ নম্বর সেক্টরে আটটি প্লট;

>> নীলা মার্কেটের সামনে পুলিশ হাউজিংয়ের বিপরীতে ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমি ও ৩০০ ফিটে ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমি;

>> দিয়া বাড়ীতে সুইমিং পুল, মসজিদ এবং গেষ্ট হাউজ;

>> উত্তরা মাসকট প্লাজার পশ্চিমে ফার্নিচারের দোকান এবং উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে প্লট;

>> তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মহাখালী বাস স্ট্যান্ডের পাশে ৩ বিঘা জমিতে নাসার প্রধান কার্যালয় এবং

>> তেজগাঁও আড়ংয়ের বিপরীতে সাত বিঘা জমি ও মেঘনা ঘাটে ১০ বিঘা জমি।

এসব সম্পত্তি বিক্রি করে নাসা গ্রুপের কর্মচারীদের বেতন দিতে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা অথবা বন্ধ করার সিদ্ধান্তও জানাতে হবে। অন্যথায় মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাসা গ্রুপের মালিক, মালিকের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে।’’

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। গত বছরের ৩০ অগাস্ট তাকে এক্সিম ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে তার ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

গত বছরের ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। 

গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত একাধারে ১৭ বছর ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

২০০৭ সাল থেকে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন তিনি। ব্যাংক পরিচালক পদে থাকতে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা মজুমদারের পরিকল্পনায় একাধিকবার ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়।