ছেলেসহ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ট্রাইব্যুনালের
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তার ছেলে-ভাতিজাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন।
আসামিদের মধ্যে শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ওরফে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমান রয়েছেন। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
পরে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, "জুলাইয়ে অভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সদর এবং ফতুল্লা এলাকাতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মধ্যে থেকে প্রসিকিউশন ‘পার্টলি’ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।"
তিনি বলেন, “ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ, যে ওইদিন ১৯ জুলাই তার বাড়ির ছাদে খেলা করছিল, সেখানে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে এই ফরমাল চার্জটি দাখিল করা হয়েছে। এখানে আসামি করা হয়েছে ১২ জনকে। তার মধ্যে ওখানকার সংসদ সদস্য জনাব শামীম ওসমান, তার ছেলে জনাব অয়ন ওসমান এবং তার ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনকে এই ফরমাল চার্জে অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই এবং ৫ অগাস্ট– এই তিন দিনে ১০ জনকে হত্যা এবং বহু ছাত্র-জনতাকে গুলি করে, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তামিম জানান।
তিনি বলেন, “মাননীয় ট্রাইব্যুনাল ফরমাল চার্জটি দেখেছেন, এর সাথে দাখিলকৃত ডকুমেন্টারি এভিডেন্স পর্যালোচনা করে এই সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ২৬ জানুয়ারি এই আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।”
একেএম শামীম ওসমান এখানে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জানিয়ে তামিম বলেন, “উনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন, তার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন সেতুমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাথে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন, যার কল রেকর্ড এবং সিডিআর আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি, যেটি তদন্ত সংস্থা আমাদেরকে দিয়েছে।”
