২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আন্দোলনে দমন-পীড়ন: ১৭৩০ মামলা, অভিযোগপত্র ২৬টির

অভিযোগপত্র জমা পড়া মামলাগুলোর মধ্যে ৮টি হত্যা মামলা, বাকি ১৮টি অন্যান্য ধারার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2025, 02:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

গেল বছরের জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা-নিপীড়নের ঘটনায় দায়ের করা দেড় হাজারের বেশি মামলার মধ্যে ২৬টির অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়। 

অভিযোগপত্র জমা পড়া মামলাগুলোর মধ্যে ৮টি হত্যা মামলা, বাকি ১৮টি অন্যান্য ধারার।

শেরপুর, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও কুড়িগ্রাম জেলার এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ৮টি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ দপ্তর। 

এছাড়া অন্যান্য ধারার ১৮টি মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জামালপুর জেলার পাশাপাশি ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী মহানগর পুলিশ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮টি হত্যা মামলার আসামি ১ হাজার ১৫৩ জন এবং অন্যান্য ধারার ১৮টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৬৮২ জনকে।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় সারাদেশে ১ হাজার ৭৩০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার যথাযথ তদন্ত নিশ্চিতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তরা তদারকি করছেন। 

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন শেষমেশ সরকার উৎখাতের ইতিহাস পড়ে।

শুরুতে এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পরে তা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

সরকারের তরফে জবাব ছিল- গুলি, টিয়ারশেল আর লাঠি; এককথায় কেবলই বলপ্রয়োগ। প্রথমে ফেইসবুক, পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় সরকার। তাতে হিতে বিপরীত হয়।

আন্দোলনে রক্তপাত শুরু হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই লাশ আর রক্তের বোঝা মাথায় নিয়ে পতন হয় দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের। 

 ৫ অগাস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন সাড়ে ১৫ বছর দেশ চালিয়ে আসা শেখ হাসিনা।

সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সে সময়ের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা আটশোর বেশি। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।