১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ সরকারের

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্য বিবরণীতে বলেছে, “কিছু গণমাধ্যম এখনো দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 09:18 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করতে অনুরোধ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানের ঘণ্টা কয়েক পরে তথ্য বিবরণী দিয়ে মন্ত্রণালয় এ অনুরোধ জানাল।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, “সরকার জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখতে দেশের সকল প্রকার গণমাধ্যমকে (টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সোশাল মিডিয়া) পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।”

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বুধবার দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।

এ খবর আসার প্রেক্ষাপটে তথ্য মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিত ও পলাতকদের বক্তব্য প্রচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে তথ্য বিবরণী দিয়েছে।

এর আগে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে আবারও আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলেন।

তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন।

এর পর সন্ধ্যায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, “আইসিটির এই নিষেধাজ্ঞা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইসিটি পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করা ও দণ্ডিত আসামির পূর্বে দেওয়া সব বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরাতে ও বন্ধ করতে এবং প্রচার ও প্রকাশ না করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেন।

“জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে আইনের সুস্পষ্ট ধারা উল্লেখ করে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।”

এমন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্য মন্ত্রণালয় বলছে, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গণমাধ্যমের একটি অংশ জুলাইয়ের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আদালতের নির্দেশনা মানলেও কিছু গণমাধ্যম এখনো দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।“

যেসব গণমাধ্যম গণমাধ্যম ভারতে থাকা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছে সেগুলোকে ‘আন্তরিক ধন্যবাদ’ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেইদিল্লি

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে 'আইনগত ব্যবস্থা': তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেদিল্লিকে বলল ঢাকা