১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’: তথ্য উপদেষ্টা

“আমরা আগেরবার একটা সতর্কতা দিয়েছিলাম। আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এটা যেন কেউ না করে।”

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 04:54 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবার কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম।

এ বিষয়ে এক সংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, ৫ অগাস্ট নিয়ে তিনি বক্তব্য রাখবেন, আদালতের নির্দেশনা সত্বেও কোনো কোনো পত্রিকা ফলাও প্রচার করছে এটা আদালত অবমাননা করছে। এছাড়া সেই সরকারের লোকজন এখনও থেকে গেছে। এসব ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেবেন কি না।

জবাবের তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এর আগেও পত্রিকাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা আবার বক্তৃতা করবেন, এ ধরনের নিউজ চোখে পড়েনি। তিনি আবার বক্তৃতা করবেন এ ধরনের নিউজ যদি কেউ দিয়ে থাকে বা আগাম জানায়, পাবলিশ করে, তাহলে এটা আদালতের রায় ‘ভায়োলেট’ করা হবে। 

“আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। আমরা আগেরবার একটা সতর্কতা দিয়েছিলাম। আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এটা যেন কেউ না করে। বিরত থাকেন কেননা আদালতের নির্দেশ আছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের সরকার আদালত নয়। কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন, কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া  ভুল হচ্ছে। তার বক্তব্য প্রচার হতে দেওয়া উচিত, কেউ যদি মনে করেন তাহলে রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতে যেতে পারেন। 

“তবে আদালতের রায় মেনে চলা প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য। আদালতে রায় কার্যকর হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। ওই বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি।

এরপর মঙ্গলবার তথ্য উপদেষ্টার তরফে এই সতর্কতা এল।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পতন এবং পলায়ন দিবস, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কি কয়েক হাজার লোক নিয়ে পালিয়েছিলেন? পালিয়ে গেছেন (শেখ হাসিনা), পালানোর পরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে প্রশাসন এবং তার সাথের লোকজন রয়ে গেছে। চাইলেই এতো মানুষকে সরিয়ে ফেলতে পারবেন না। 

“১৫ বছর সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যত কর্মকর্তা গেছেন এই জায়গাগুলো পূরণ করা সোজা না। একজন পদোন্নতি পাননি, তাকে এখন পদোন্নতি দিচ্ছেন, কিন্তু তারও তো দক্ষতার প্রশ্ন আছে। হঠাৎ করে আপনি কাউকে নিয়ে যাওয়া, প্রতিটি ধাপে শেখার আছে। জটিলতা আছে, চেষ্টা চলছে।”

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, গত দুই বছরে অন্তত ২০ বার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে আসবেন। এরই মধ্যে আগামী ডিসেম্বরে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন দেশে আসার। বর্তমান সরকার তাকে কীভাবে রিসিভ করবে?

জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “রিসিভ করার কি, আমি আগেই জবাব দিয়েছি। খুব হাস্যকর কথা, আমরা ওনাকে চাইছি উনি আসুন। আমরা ভারতকে চিঠি দিচ্ছি, ভারতের হাই কমিশনার দেখা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে। প্রত্যেক জায়গায় কি কথা ছিল। তাকে আমরা আনতে চাই।  এবং যতদিন উনি ওখানে আছেন, উনি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না। 

“ভারতের পার্লামেন্টের একটা কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে, তারা মনে করে যে শেখ হাসিনা ওখানে বসে রাজনীতি করা উচিত হবে না, সে অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না। এটা খুব হাস্যকর যাকে ধরে আনতে চাই, কারণ আমাদের তো চুক্তি আছে বিনিময় চুক্তি। ধরে বেঁধে আনতে চাই, তিনি বলছেন আসবেন, আসুক। আমরা প্রস্তুত আছি।”

তিনি বলেন, “তাকে (শেখ হাসিনা) আমরা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করব। আইনগত যা যা, তিনি অবশ্যই গ্রেপ্তার হবেন, যেহেতু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। গ্রেপ্তার হওয়ার পরে ওনার যা যা আইনগত অধিকার উনি সেটা ‘এক্সারসাইজ’ করুন। আইনজীবী নিন, লড়াই করুন, আত্মপক্ষ সমর্থন করুন। এতে আদালত যে রায় দেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল বা খালাস, যাই দিক সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। সুতরাং আসুন, আমরা প্রস্তুত আছি।”

তসলিমা নাসরিনকে এ সরকারের দেশে আনার কোনো উদ্যাগ আছে কিনা, এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, "এ সরকারের কোনো উদ্যাগ নেই। তিনি আসবেন কিনা, তিনি আসার জন্য কি কি করতে চান, একেবারে তার সিদ্ধান্ত। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যা যা প্রক্রিয়া, পদ্ধতি আছে তিনি সেটা করতে পারেন। তারপর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে তার ব্যাপারে। এখানে সরকারের উদ্যাগ নেওয়ার কিছু নেই।

“তার কোনো যদি অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তিনি দেশে আসলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।”

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারে বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এনসিপি নেতারা যে ধরনের বক্তব্য, তাতে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যাগ নেবে?

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “একটা জিনিস হলে, আমরা কোন কথা বলতে পারি কোন কথা বলতে পারবো না, এটা খুব ‘সাবজেক্টিভ’ ব্যাপার। এটা এক নম্বর কথা। আমাদের আইন আছে কেউ যদি কারো সন্মানহানি হয় মনে করেন, তাহলে সেটা তিনি ব্যবস্থা নেবেন, এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে… নেই। কোনো মন্তব্য যদি কোনো ব্যাক্তির বিরুদ্ধে হয়, তিনি যদি সংক্ষুব্ধ হন, তিনি কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা…  আমাদের কিন্তু প্যানাল কোডে আছে। ডিজিটাল মাধ্যমে হলে সেটাও আছে।”

বিভিন্ন আদালতে ন্যায় বিচার পাচ্ছে না, এ ধরনের সমালোচনা হওয়ার কথা বলেন এক সাংবাদিক। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটা সরকার, বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত করার অধিকার আছে, আসামিকে ধরার অধিকার আছে। 

“একটা ভালো অভিযোগপত্র দেওয়ার অধিকার আছে। সেই মামলা চালিয়ে নিয়ে যওয়ার অধিকার আছে। বিচার দিনের শেষে ‘ডিসচার্জ’ হয় বিচার বিভাগের দ্বারা। এখানে সরকার আসলে কিছুই না, এটা আলাদা বিভাগ। ন্যায় বিচার নিশ্চিতে একটা অংশ সরকার, আরেকটা অংশ বিচার বিভাগের। সরকার একচ্ছত্র কোনো অধিকার নিম্ন আদালতে রাখে না।”

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের জামিনের বিষয়টি বাংলাদেশ দেরিতে জানা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি এই ব্যাপারটি নিশ্চিত নই। আমি খোঁজ নিতে পারি। কেন দেরি হল, এটা ‘ভ্যালিড পয়েন্ট’। জানার চেষ্টা করবো।”

বর্তমানে লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, “এ সমস্যার সমাধানে সরকার খুবই সচেষ্ট এবং এ ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান হবে।”