Published : 01 Aug 2026, 03:40 PM
শাড়ি পরে গানের তালে হাঁটার ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন তার একসময়কার এক সহপাঠী।
বিউটি রাণী পালকে 'স্বপ্নবাজ' হিসেবে অভিহিত করেছেন মো. বদরুজ্জামান বাপ্পি নামের ওই সহপাঠী, যিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষক।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "বিউটি পাল আমাদের ব্যাচমেট। ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে আমরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হই।
"বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে অবহেলিত স্তরগুলোর একটি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। সেই স্তরেই কাজ করছেন আমাদের দুই সহপাঠী— বিউটি পাল এবং মাসুদুল ইসলাম রানা। দুজনেরই ফলাফল ছিল ফার্স্ট ক্লাস, যোগ্যতাও ছিল উজ্জ্বল। তবু তারা বড় শহরের চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরামদায়ক পরিবেশের পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদানের পথ।"
তার ভাষ্য, “তারা ছেড়ে এসেছেন সিলেট শহরের আভিজাত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা। তারা কাজ করছেন এমন বাস্তবতায়, যেখানে শিক্ষকদের বই কেনার জন্য ২০০ টাকা প্রণোদনা বা ৫০ টাকার ইন্টারনেট ভাতাও নিতে হচ্ছে। তারপরও নিজের অর্থ ব্যয় করে তারা শিশুদের পড়িয়ে যাচ্ছেন।”
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল একটি গানের সঙ্গে মিলিয়ে রিল ভিডিও পোস্ট করেন।
গত ২৩ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত ছিল নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচের’ মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের একটি অংশ।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রাণী পালকে নিয়ে সমালোচনা ও ট্রলের ঝড় ওঠে। তবে এর প্রতিবাদে অনেক নারী এগিয়ে এসে বিউটি রাণীর পক্ষে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
সমালোচনার মুখে পড়ার পর পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
আরো পড়ুন