১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি খরচে বিদেশ সফর বন্ধ, গাড়ি কেনাতেও কড়াকড়ি

সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2026, 08:47 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি অর্থে বিদেশে সব ধরনের সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চালু রেখেছে সরকার।

তবে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান, দেশ থেকে পাওয়া স্কলারশিপ, ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে। বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে করা বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা যাবে।

একইসঙ্গে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় থেকে গাড়ি কেনায়ও কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে এ অর্থবছরে।

কেবল ১০ বছরের বেশি পুরোনো ‘টিওঅ্যান্ডইভুক্ত’ (অনুমোদিত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম) যানবাহন হলে তা বদলানো যাবে। নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘টিওঅ্যান্ডইভুক্ত’ যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদনে কেনা যাবে।

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে বুধবার অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র দিয়ে অর্থ বিভাগ সকল ধরনের থোক বরাদ্দ হতে ব্যয় বন্ধ রাখার কথা বলেছে। এছাড়া সকল ধরনের যানবাহন ক্রয় যেমন- মোটরযান, জলযান, আকাশযান কেনায় অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত ব্যবহার নয় বরং কোনো দপ্তরের জনবল আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত যান যদি ১০ বছরের পুরনো হয় তাহলে তা পরিবর্তন করা যাবে। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান হলে এ ধরনের বাহন কেনায়ও অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে।

তবে এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের জন্য মোটরযান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন করা বা নতুন কেনা মোটরযান জিপ বা কার যেটিই হোক, তা অবশ্যই পুরোপরি বৈদ্যুতিক গাড়ি হতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আবাসিক হোক বা অনাবাসিক বা অন্য যেকোনো ভবন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার কথাও তুলে ধরা হয়েছে অর্থ বিভাগের পরিপত্রে।

কেবল চলমান নির্মাণ কাজ যদি ন্যূনতম ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে বাকিটুকু শেষ করার জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে অর্থায়ন করা যাবে। ভূমি অধিগ্রহণ খাতেও বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারি কর্মী গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম যে সুবিধা পেতেন, সেটিও বন্ধ থাকবে এ অর্থবছরে। তবে যেসব ক্ষেত্রে এ পরিপত্র জারির আগেই অনুমোদিত কোনো প্রকল্পের যান কেনার ব্যয় রাখা হয়েছে, সেখানে শর্ত শিথিল থাকবে। 

এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সকল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে গেলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে 'বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা' খাতে সরকারের সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।

কোনো পণ্য আনার আগে তার যাচাইয়ের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন জটিল প্রকৃতির পণ্যের যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে ‘সার্টিফাইড’ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার’ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

২০২২ সাল থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এবং মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বাড়তে থাকলে এ ধরনের খরচে লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ধারাবাহিকতা আওয়ামী লীগ, পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমানে বিএনপি সরকার চালু রেখেছে।

এর মধ্যে সরকার ভিন্নতায় এবং প্রয়োজন অনুসারে শর্তে কাটছাঁট করা হয়েছে।