১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যাত্রাবাড়ীর মামলাতেও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’

“যাত্রাবাড়ীর মামলাটিসহ মোট আটটি মামলায় তিনি জামিন পেলেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো পেন্ডিং মামলা নেই।”

যাত্রাবাড়ীর মামলাতেও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2026, 09:19 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট।

তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছে আদালত।

খায়রুল হকের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

আদেশের পর সাঈদ আহমেদ রাজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আজকের যাত্রাবাড়ীর মামলাটিসহ মোট আটটি মামলায় তিনি জামিন পেলেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো পেন্ডিং মামলা নেই এবং নতুন কোনো মামলায় তাকে এখন পর্যন্ত অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি। ফলে আপাতত তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই।"

এ আইনজীবী বলেন, "আমরা জামিন করালেই নতুন মামলায় তাকে অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর আগেও হাই কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর আমরা দেখেছি, একদিন আগের পুরনো তারিখে তাকে নতুন করে অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। এবারও যদি তারা এমন কিছু করে বসে, তাহলে তো সেটি আমাদের আগে থেকে জানার কোনো সুযোগ নেই।"

গত ২১ জুন জজ আদালত এ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করলে হাই কোর্টে আবেদন করেন এম খায়রুল হকের আইনজীবীরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে গুলিতে খোয়াইব (২০) নিহত হন।

ওই ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের স্বার্থে ১৬ মে এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।

এরপর ২৩ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার পর সেদিন রাতেই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, রায় ‘জালিয়াতি’ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যা, রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পৃথক পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

এছাড়া ২০ মে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

এর আগে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৩ মে রিট আবেদন করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।

তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।

অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।