যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলায় র্যাবের দেয়া অভিযোগপত্রে নারাজি আবেদন করা হয়েছে।
Published : 09 Jun 2014, 09:03 PM
এ হত্যা মামলার মূল সাত আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়ার কারণ দেখিয়ে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তারেক মঈনুল ইসলাম ভূইয়ার আদালতে নারাজি আবেদন জমা দেয়া হয়।
মিল্কীর ভাই ও মামলার বাদী মেজর রাশেদুল হক খানের পক্ষে তার আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর নারাজি আবেদন জমা দেন।
বিচারক এ বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছেন ১৭ জুন।
মামলাটির উদ্দেশ্য পরিবর্তনের জন্য একটি গ্রুপ তদন্তকাজকে প্রভাবিত করতে আড়াল থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত বছরের ৪ অগাস্ট অভিযুক্ত ফাহিমা ইসলাম লোপা ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে মিল্কী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাহিদুল ইসলাম টিপু ও ওয়াহিদুল আলমের নাম উল্লেখ করেন।
শুধু তাই নয়, আরেক অভিযুক্ত মাহবুবুল ইসলাম হিরকও এ হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা হিরকের নামও অভিযোগপত্রে দেননি বলে নারাজি আবেদনে বলা হয়েছে।
মেজর রাশেদ নারাজি আবেদনে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া আসামিদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সিআইডির মাধ্যমে তদন্তও চেয়েছেন।
জাহিদুল ইসলাম টিপু, ওয়াহিদুল আলম আরিফ, আহকাম উল্লাহ, আমিনুল এহসান বাবু ওরফে টমেটো বাবু ওরফে ডিশ বাবু, মাহবুবুল হক হিরক, এনামুল হক ও মাসুম উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে সিআইডির মাধ্যমে অতিরিক্ত তদন্ত করে তাদের নাম অভিযোগপত্রে যুক্ত করার আবেদন করেছেন বাদী ।
গত বছর ২৯ জুলাই গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণীবিতানের সামনে খুন হন রিয়াজুল হক খান মিল্কী। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে গুলি করা হয়।
ওই বিপণীবিতানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে ‘মূল’ হত্যাকারী হিসেবে যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেককে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর খিলক্ষেতে র্যাযবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
মিল্কী হত্যার ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা করেন তার ভাই মেজর রাশিদুল হক খান। এতে তারেকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
গত ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. কাজেমুর রশীদ ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে হত্যার ঘটনার পর র্যা্বের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেকের নামও রয়েছে।
অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- সাখাওয়াৎ হোসেন চঞ্চল, মোসাম্মৎ ফাহিমা ইসলাম লোপা, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, শহীদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, সোহেল মাহমুদ, চুন্নু মিয়া, আরিফ, ইব্রাহীম খলিল, রফিকুল ইসলাম, শরীফ উদ্দিন পাপ্পু।
এদের মধ্যে ফাহিমা ইসলাম জামিনে, সাখাওয়াৎ হোসেন, আরিফ, ইব্রাহীম, রফিকুল পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।