১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানে রাজপুন্যাহ উৎসব ১৪ জানুয়ারি

বান্দরবানে আগামী ১৪ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বোমাং রাজার তিন দিনব্যাপী রাজপুন্যাহ উৎসব। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের প্রথম দিন বোমাং সার্কেলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে বোমাং রাজা (সার্কেল চিফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ফসল ও ভূমির বার্ষিক খাজনা আদায় করেন। পাশাপাশি চলে তিন দিনব্যাপী মেলা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Dec 2009, 04:08 PM

Updated : 26 Aug 2022, 12:33 PM

বান্দরবান, ডিসেম্বর ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বান্দরবানে আগামী ১৪ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে বোমাং রাজার তিন দিনব্যাপী রাজপুন্যাহ উৎসব। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের প্রথম দিন বোমাং সার্কেলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে বোমাং রাজা (সার্কেল চিফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ফসল ও ভূমির বার্ষিক খাজনা আদায় করেন। পাশাপাশি চলে তিন দিনব্যাপী মেলা। বৃহস্পতিবার বোমাং রাজার দরবার হলে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজা (সার্কেল চিফ) অংশৈপ্র" চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুন্যাহ উৎসবের এ তারিখ ঘোষণা করেন। ৯৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজা সাংবাদিকদের জানান, বোমাং সার্কেলের এবারের উৎসব হবে ১৩৪তম এবং বর্তমান ১৫তম রাজার ১২তম উৎসব। তিনি আরো জানান, ১৮৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোমাং সার্কেলে ফসল ও ভূমির বার্ষিক খাজনা আনুষ্ঠানিকভাবে আদায় করা হচ্ছে। তবে ১৮২২ সাল থেকে বোমাং সার্কেলের কার্যক্রম শুরু হয়। রাজবাড়ি সূত্র জানায়, বর্তমান রাজা অংশৈপ্র" চৌধুরী ১৯৯৬ সালে ১৪তম রাজা মংশৈপ্র" চৌধুরী মারা গেলে তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ১৯৯৭ সাল থেকে তার রাজপুন্যাহ উৎসব শুরু হয়। বোমাং সার্কেলের রীতি অনুযায়ী রাজার ছেলে বা মেয়ে রাজা (সার্কেল চিফ) হন না। রাজা মারা যাওয়ার পর রাজ পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই রাজা হয়ে থাকেন। রাজবাড়ি সূত্র আরো জানায়, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে বোমাং ও চাকমা সার্কেলে ভাগ করে শাসনকার্য পরিচালনা করত। বান্দরবান তথা আদিবাসী মারমা অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে বোমাং সার্কেল এবং রাঙ্গামাটি তথা চাকমা অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে চাকমা সার্কেল গঠন করা হয়। পরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পৃথক মং সার্কেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বাধীনতার পর মানিকছড়ি থেকে মং সার্কেলের দপ্তর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বোমাং রাজা বা বোমাং সার্কেল চিফ সরকারের পক্ষে সার্কেলের অধিবাসীদের কাছ থেকে ফসল ও ভূমির উপর নির্ধারিত খাজনা আদায় করে আসছেন। এই হার পরিবার প্রতি ৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। আদায়কৃত খাজনা থেকে রাজা, সরকার, রাজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান), কারবারী (পাড়া প্রধান) নির্ধারিত হারে অংশ পেয়ে থাকেন। উৎসবের প্রথম দিন রাজবাড়ির সামনে দরবার বসিয়ে বোমাং রাজা খাজনা আদায় করেন। হেডম্যান ও কারবারীগণ রাজবাড়িতে উপস্থিত হয়ে রাজাকে খাজনা দেন। এ সময় সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। রাজবাড়ির বিশাল মাঠে আয়োজিত মেলায় বিভিন্ন লোকজ, কৃষিজ ও শিল্প পণ্যের পসরা বসে। পাশাপাশি চলে গান-বাজনা. যাত্রাপালা, সার্কাস, পুতুল নাচসহ বিভিন্নি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। বোমাং রাজা জানান, এ বছর ১৪ জানুয়ারি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুন্যাহ উৎসব আয়োজন করা হবে। রাতে অতিথি ও তার সার্কেলের হেডম্যান-কারবারীদের সম্মানে নৈশভোজ হবে। পাশাপাশি চলবে তিন দিনব্যাপী মেলা। বান্দরবান জেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজা নিয়ে গঠিত বোমাং সার্কেল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এজে/২২০৭ ঘ.