পক্ষপাত থাকতে হবে, নারীর প্রতি: তৌফিক খালিদী
পুরুষ আধিপত্যের সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠায় নারীদের সামনে এগিয়ে আনতে তাদের প্রতি ‘পক্ষপাত’ দেখানোর পক্ষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
তিনি বলেছেন, “আমাদের পক্ষপাত নারীদের পক্ষে থাকবে। এই যে বলা হচ্ছে, পক্ষপাত ভেঙে ফেলা হোক, আমি এই স্লোগান ঠিক পছন্দ করতে পারছি না।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বার্তাকক্ষে এক আয়োজনে এ কথা বলেন তৌফিক খালিদী।
এবার নারী দিবসকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ’ব্রেক দ্য বায়াস (ভেঙে দাও পক্ষপাত)’ স্লোগানটি।
বিশ্বে যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯১০ সমাজতন্ত্রী নারীদের সম্মেলন থেকে প্রতিবছর ৮ মার্চকে নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত আসে।
জাতিসংঘের সমর্থনে এখন বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়, যাতে সাম্যের পৃথিবী গড়তে নারীদের এগিয়ে আনার আহ্বান ধ্বনিত হয়।
এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য’।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার মহাখালীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে কেক কাটেন নারী কর্মীরা।
সহকর্মীদের নিয়ে বার্তাকক্ষে কেক কেটে দিনটি পালন করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক।
সেই কেকের উপর জনপ্রিয় স্লোগান ‘ব্রেক দ্য বায়াস’ দেখে নারীদের যুগ যুগের বঞ্চনার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তৌফিক খালিদী।
“আমি বলতে চাই যে, আমাদের পক্ষপাত থাকবে এবং সেটা সব নারীদের প্রতি। যা সব সময় ছিল, তা অব্যাহত থাকবে,” বলেন বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংবাদপত্রের পথিকৃৎ।
খবরের সঠিকতা যাচাই ও সম্পাদনার ভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অনুসরণ করার মতো করে নারীর প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটিতে অনুসরণ করার কথা বলেন তিনি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদেরকে অনুসরণ করা উচিৎ। খবরের ক্ষেত্রে যে রকম করেছে, খবর সম্পাদনা কীভাবে করতে হয়, কী করে সঠিক তথ্য যাচাই করতে হয়, কী করে ভুল খবর কখনও না দিতে হয়।
“সেটা যে রকম আমাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেছে, অনুকরণ করেছে, অনুসরণ করেছে, এক্ষেত্রেও আমাদেরকে অনুসরণ করতে হবে।”
নাগরিক সাংবাদিকতার প্ল্যাটফর্ম ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মডারেটর আইরিন সুলতানা প্রতিষ্ঠানে কর্মপরিবেশ তুলে ধরে বলেন, “আমরা তো সংবাদকর্মী, সংবাদ মাধ্যমে কাজ করি। আমরা এখানে নারী সাংবাদিক বা পুরুষ সাংবাদিক নই।
“আমরা সংবাদকর্মী হিসাবে করি, কাজ শিখি। ফলে আলাদা করে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ দেখা হয় না।”
