২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সেই বাস ডাকাতদল গ্রেপ্তার

ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম যে ডাকাতদের কবলে পড়েছিলেন সেই দলকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jan 2022, 12:42 AM

Updated : 02 Aug 2022, 02:48 PM

রোববার রাতে এক বার্তায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, জড়িত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অন্য এক আন্তঃজেলা ডাকাতদলের মূলহোতাসহ পুরো চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে কতজন ডাকাত, কোথা থেকে এবং কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বার্তায় বলা হয়নি। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ২০ জানুয়ারি রাতে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে ডাকাতের কবলে পড়েছিলেন চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম।

আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসে ওঠার পর যাত্রীবেশী সংঘবদ্ধ ডাকাতরা তাকে আটকে রেখে সাত-আট ঘণ্টা পর যাত্রাবাড়ির কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বাস ফেলে রেখে গিয়েছিল বলে শফিকুল ইসলাম ঘটনার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন।

পরে তিনি যাত্রবাড়ী থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে তাদের এলাকা নয় বলে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়। ওই থানা পুলিশ তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে আহত শরীর আর ভগ্ন মন নিয়ে সেখানে যাওয়ার আর আগ্রহ পাননি শফিকুল।

পরে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় তিনি স্ট্যাটাস দিলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

বাস ডাকাতির পর মামলা করতে গিয়েও পেরেশান  

এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বাস ডাকাতদলসহ আন্তঃজেলা ডাকাতদলকে গ্রেপ্তারের কথা জানাল পুলিশ।

এদিকে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের খবর জানার পর রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ২০ জানুয়ারির ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় কিছুক্ষণ আগে একটি মামলা করেছেন বলে জানান।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য বন্ধু আখিরুল ইসলাম রাকিবসহ ঢাকা- রাজশাহী- চাপাইনবাবগঞ্জ রুটের আর কে আর নামের পরিবহনে উঠেন। মিনিট দশেক পর ৮ থেকে ১০ জন পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের দুইজনকে চোখ, হাত, পা বেঁধে জিম্মি করে ফেলে।

“ডাকাতদল তার কাছ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার নগদ, বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার একশত টাকা, দুই ব্যাংকের দুইটি এটিএম ডেবিট কার্ড দিয়ে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা, রাকিবের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং তাদের কাছে থাকা একাধিক মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।”

আরও কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকেও একইভাবে টাকা জিনিসপত্র কেড়ে নেয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।

ডাকাতদল সারারাত তাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরায় এবং কযেকজনকে বিভিন্ন জায়গায় নামিয়ে দেয়। পরে সকালে চট্রগ্রাম সড়কের মাতুয়াইলে একজন তার চোখ খুলে দেন।

ডা. শফিকুল মামলায় উল্লেখ করেন, ডাকাতদল নিজেদের নাম না বলে মাস্টার, মামু, বিলাই বলে এক অপরকে সম্বোধন করে।