ছেলেমেয়েরা ফেল করবে কেন: প্রধানমন্ত্রী
মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি ছেলেমেয়েরা ফেল করবে কেন?... ফেল করার কোন অর্থ হয় না। আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি।”
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার সকাল ১০টার পর গণভবনে শেখ হাসিনার কাছে এবারের ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন।
গত বছর এ পরীক্ষায় ৮৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার বাড়লেও কমেছে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী। তাদের ফেল করার কোনো সুযোগ নেই। একটু ভালভাবে সুযোগ দিলেই তারা পাস করতে পারবে।”
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিনামূল্যে বই বিতরণ, বৃত্তি, উপবৃত্তিসহ শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার তথ্য তুলে ধরেন।
যারা ফেল করেছে এবং যারা আগামীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদেরকে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়, যাতে অংশ নেয় সারা দেশের ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার পর নির্ধারিত ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই এসএসসির ফল প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে কৃতি শিক্ষার্থীদেরও তিনি অভিনন্দন জানান।
বোর্ড চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যার যার বোর্ডের ফল হস্তান্তর করার পর প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঝালকাঠি ও পঞ্চগড়ের স্থানীয় কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন থেকে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে ফলাফল পৌঁছে যাবে। অনলাইন এসএমএসেও পাওয়া যাবে ফলাফল। রেজাল্টের জন্য শিক্ষার্থীদের আর দৌড়-ঝাঁপ করতে হবে না।”
বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে বিশেষায়িতসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ায় এখন ‘দ্রুত চাকরি পাওয়া যাচ্ছে’।
জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে, মেডিকেল কলেজ হবে। জনগণ যাতে বেকার বসে না থাকে। কিছু একটা করতে পারে।”
