Published : 21 Nov 2025, 12:06 AM
তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
তার এই সফরে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিনিময়সহ তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুটানের সরকারপ্রধানের আসন্ন এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি জানান, শনিবার সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাকে গার্ড অনার দেওয়া হবে।
এরপর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন শেরিং তোবগে।
ওইদিন দুপুরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেন।
দুপুরের পর প্রথমে দুই সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং শেরিং তোবগের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপর হবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, “বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়গুলো এখনো আলোচনাধীন।”
শনিবার রাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হবে।
পরদিন রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।
ওইদিন বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারে।
সফরশেষে ২৪ নভেম্বর সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থিম্পুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, “দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ কর্তৃক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে। সে প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভুটানকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ক কয়েকটি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে।
“এবং ভুটানের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাদারদের নিয়োগে ভুটান সরকারের সহযোগিতা কামনা করবার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা যায়।”
ভুটান থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আনার অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভুটানের জলবিদ্যুৎ আনার একটি প্রস্তাব রয়েছে এবং ভুটানের পক্ষ থেকেও আগ্রহ রয়েছে।
“কিন্তু যেহেতু বিষয়টি ত্রিদেশীয়, সেহেতু এটা এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটা ভুটান এবং ভারতের মধ্যে আলোচনার শেষে আমাদের সাথে আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করি।”
ভুটান ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশির ভ্রমণ কর কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ট্র্যাভেল ট্যাক্স যে পর্যায়ে আছে, সেই পর্যায়ে রাখবার জন্যতো অনুরোধ থাকবেই। এছাড়া আপনি যেমন বলছেন, আমরা নিশ্চয় আরও কমিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।”
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ভুটানকে ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “কুড়িগ্রাম অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক জোন ভুটানের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক আগেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
“এবং আপনি যে বিমানবন্দরের কথা বলছেন, এটা নিকটবর্তী এলাকায়। সুতরাং, আমাদের তরফ থেকে ভুটানকে নিশ্চয় প্রস্তাব দেয়া হবে, যে অর্থনৈতিক জোনটা যেন সুচারুরূপে ব্যবহার করেন তাদের শিল্পায়নের জন্য। এবং সেক্ষেত্রে যদি সৈয়দপুর বিমানবন্দর তারা ব্যবহার করতে চান, আমাদের তরফ থেকে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।”