Published : 15 May 2026, 06:09 PM
ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেইক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার মামলায় আরো দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ রিমান্ডের আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- আব্দুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত এবং ফুরকান মিয়া। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এর আগে এই মামলায় ২৪ এপ্রিল ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই শামিম হাসান গ্রেপ্তার দুজনকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এআই ও ডিপফেইক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছিল। চক্রটি দেশব্যাপী সক্রিয় এবং তারা ফেইসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য ডলারের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করত। যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রিতে আরো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ডলারের উৎস খুঁজে বের করা, অর্থ লেনদেনের বণ্টন প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকুনজ্জামান বলেন, “আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।”
গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে এই মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, “আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেইক প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত। পরে সেই ভুয়া ভিডিওতে আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামে একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচার চালানো হত।
“সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিত। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’-সহ ২৪টির বেশি ভুয়া ফেইসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচার চালাত। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত।”
মামলার পর পল্টন মডেল থানা ও সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৪ এপ্রিল ১০ আসামি গ্রেপ্তার করে।
এরা হলেন- সারাফাত হোসেন, শাফায়েত হোসেন শুভ, শাহাদাত তৌফিক, ইমাম হোসেন বিজয়, রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, আব্দুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান।