১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এক পূর্ণিমায় জোড়া উৎসব

গৌতম বুদ্ধ ‘বুদ্ধত্ব’ লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2025, 12:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান’ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে সোমবার। একই দিনে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজাও। 

আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ ‘বুদ্ধত্ব’ লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।

বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা সেই থেকে বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন। ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি।

বৌদ্ধা বিশ্বাসে, প্রবারণা হল আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দান উৎসব।

সোমবার রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩ মিনিটে শেষ হবে। 

আর, ‘কঠিন চীবর দান’ বৌদ্ধদের বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর শুভ প্রবারণার মধ্য দিয়ে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে বৌদ্ধদের বিহারে বিহারে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। যা মাসজুড়ে চলে।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বলে এক বার্তায় জানিয়েছে।

ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতী বন্দনা নিয়ে প্রথম পর্বের উদযাপন শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ ও অষ্টোপকরণসহ মহাসংঘদান, ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান অনু্‌ষ্ঠান চলবে।

মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতি শেষে বিকালে দ্বিতীয় পর্বে ত্রিপিটক থেকে সূত্রপাঠ, ‘প্রবারণার তাৎপর্য ও বিশ্ব মানবতাবাদ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর সন্ধ্যায় শীলগ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ফানুস বাতি উৎসর্গ শেষে বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসবের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া, রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারেও একইরকম অনুষ্ঠানমালা ঘোষণা করা হয়েছে বলে বিহার কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় জানিয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এছাড়া, বুধবার বৌদ্ধ ধর্মীয় একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজাও উদযাপিত হচ্ছে এদিন।

শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে এ পূজা হয়। এ দিন ধন-সম্পদের দেবী হিসেবে লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।

সরা ও প্রতিমা দিয়ে পূজা সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও মেঝেতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ও ধানের ছড়ার আল্পনা আঁকাও এ পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, ধনসম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুর পত্নী এবং তার শক্তির উৎস। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করলে লক্ষ্মী যথাক্রমে সীতা ও রাধা রূপে তার সঙ্গিনী হন।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টা ৫৪ মিনিট থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে, যা চলবে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত।

পূজার পাশাপাশি অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও অতিথি আপ্যায়ন করা হয়।