Published : 05 Oct 2025, 03:28 PM
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান’ উপলক্ষে উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে।
প্রবারণা পূর্ণিমার মূল পর্ব—ফানুস ওড়ানোর উৎসব হবে সোমবার। তবে শনিবার থেকেই তার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
রোববার রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে গিয়ে দেখা যায়, মূল তোরণ ও ভেতরে সাজানো হয়েছে মরিচবাতি দিয়ে। বিহারের ভেতরে রঙিন কাগজের ঝালর দেওয়া হয়েছে। ভক্ত-দর্শনার্থীরা অনেকেই দেখতে আসছেন। কেউ আবার সেরে নিচ্ছেন প্রার্থনা।
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সভাপতি ধর্মানন্দ থের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সিদ্ধার্থ গৌতম যখন বুদ্ধত্ব জ্ঞান লাভ করেছিলেন, তখন উনি আসলেই জ্ঞান লাভ করেছেন কিনা সেটা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

“সেই পরীক্ষাটা হয়েছিল কীভাবে? উনার চুলটা কেটে ভাসিয়ে দিয়েছিল। ভাসিয়ে দেওয়ার পর উনি বলেছিলনে, যদি আমি সত্যি জ্ঞান লাভ করি, তাহলে আমার চুল নিচে যাবে না, সেটা উপরে চলে যাবে। পরে সেগুলো স্বর্গে চলে যায়।”
তিনি বলছিলেন, “সেই চুলগুলোকে আমরা ধাতু বলি। আর গৌতমের সেই স্মৃতি স্মরণ করেই আমরা এই রীতি পালন করি। যেহেতু তার চুল স্বর্গে গিয়েছে, তাই আমরা ফানুস উড়িয়ে উদযাপন করি। সমগ্র বৌদ্ধপ্রধান দেশেই এই রীতি পালিত হয়।”

আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ ‘বুদ্ধত্ব’ লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।
বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা সেই থেকে বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন। ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি।
বৌদ্ধা বিশ্বাসে, প্রবারণা হল আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দান উৎসব।

ধর্মানন্দ থের বলেন, “বৌদ্ধদের মধ্যে যারা ভিক্ষু আছেন, তারা যে গেরুয়া বসন পরে থাকেন, ভক্তরা বছরের মধ্যে একবার তাদের সে গেরুয়া বসন বা চীবর দেওয়ার সুযোগ পান।
“প্রত্যেক বিহারের মধ্যে যখন ভিক্ষু বা সন্যাসীরা অধিষ্ঠিত হবেন, সে বিহারের মধ্যে যারা তাদের ভক্ত আছেন, তারা ওইদিন ভিক্ষুদের আনুষ্ঠানিকভাবে কাপড় বা চীবর দেন। সবসময়ই এটা দেওয়া যায়। কিন্তু, ওইদিন আনুষ্ঠানিকভাবে একটা নিয়মের মধ্যে দেওয়া হয়।”
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ধর্মাংকুর বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইতোমধ্যে আমাদের সাজানোর মূল কাজ শেষ। আজ চূড়ান্ত পর্ব শেষ হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টার পর বিহারে কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় হবে ফানুস উৎসব। সেখানে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আর কঠিন চীবর দান উৎসব হবে নভেম্বর মাসের ৩ এবং ৪ তারিখে।
বিহারের ভক্ত অনিক বড়ুয়া বলছিলেন, “গতবছর তো আমরা এই অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারিনি। এবার এই আয়োজন হচ্ছে। ধর্মরাজিক মন্দির খুব সুন্দর করে সাজনো হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।
“আমরা বড় প্যারাসুট ফানুস, ছোট ফানুস এবং নানা রঙের ফানুস এনেছি। এখন শুধু উদযাপনের অপেক্ষা।”