Published : 15 Sep 2026, 04:08 PM
পুলিশের প্রতিদিন চার-পাঁচশ মানুষকে গ্রেপ্তারের ধারাবাহিক তথ্যের পেছনে ‘গণগ্রেপ্তার’ বা ‘নির্দোষ মানুষকে হয়রানির’ যে অভিযোগ উঠেছে, তা ‘ব্যাপকভাবে সত্য নয়’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অন্যায় যে হতে পারে, তা স্বীকার করে ভুক্তভোগীদের বিচার বিভাগের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের হাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের গ্রেপ্তারের ধরণ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫০৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এসব ঘটনায় ৫০টি মামলা করার কথাও জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “আপনার প্রশ্নের মধ্যে একটা পারসেপশন হচ্ছে খুবই ওয়াইডস্প্রেড এরকম হচ্ছে, আমার কাছে মনে হয় না।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা অস্বীকার করি না যে এরকম কিছু কেস একেবারে হয় না। মানে বাংলাদেশের প্রতিটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো অনিয়ম এবং দুর্নীতি বা সমস্যা নেই এটা আমি বলি না।”
তিনি বলেন, “এটা যদি বলি, এটা মিথ্যা কথা বলা হবে। আমি যদি বলি, এটা আগে ছিল আমরা এসে সব বন্ধ করে দিয়েছি, এটা মিথ্যা কথা। সো কিছু ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এটা এত ওয়াইডস্প্রেড না।”
জাহেদ বলেন, “যদি এ ধরনের কোনো ভুল বা ইচ্ছাকৃত অন্যায়ও কেউ করে, পুলিশ তো দিনের শেষে আসলে এক্সিকিউটিভ, সে এটা করবে।
“তারপর এই যে অভিযুক্ত আছেন, আমরা অপরাধী না বলে এভাবে বলি যে অভিযুক্ত আছেন তারা আদালতে যাবেন এবং আমরা বিশ্বাস করি আদালত এখন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে; তারা ন্যায়বিচার পাবেন। মানে একটা রাষ্ট্র তো এই বিভাগগুলো এই কারণে তৈরি হয়েছিল।”
সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সময় একদম হচ্ছে না তা বলছি না, তবে আমি এটা দাবি করি এটা খুবই ওয়াইডস্প্রেড হচ্ছে না, এটাই প্রধান বা এটা অনেক বেশি হচ্ছে এরকম না।
“আমরা আশা করি তারা সেই ন্যায়বিচার পাবেন। সরকারেরও এই চেষ্টা করতে হবে এবং নিশ্চয়ই আমরা চেষ্টা করব যেন এই জিনিসগুলো যত ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়।”
মিথ্যা মামলা ও বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আদালতের ব্যাপারে আসলে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলতে পারি না। কারণ হচ্ছে আদালত একটা আলাদা রাষ্ট্রীয় অঙ্গ।”
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি ডেমোক্রেটিক কান্ট্রির প্রসেসের জন্য জার্নালিজমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে, দিস ইজ দ্য রিজন।
“আপনারা এই কথাগুলো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে যদি রিপোর্ট তৈরি করেন, আমি বিশ্বাস করি যিনি বিচার বিভাগের অভিভাবক আছেন, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি, তার নজরে আসবে। তিনি সেই ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখবেন, আমরা সেটাও এক্সপেক্ট করব।”
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।