ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফের ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশ
সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর তিনটি পরিবহন বিমানে এসব ত্রাণ ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফায় জরুরি ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (বিএ) ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) তিনটি পরিবহন বিমানে এসব ত্রাণ ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।
এই মিশনে তিন বাহিনীর উদ্ধার বিশেষজ্ঞ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি) চিকিৎসক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসক এবং বেসামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার ও চিকিৎসা দল আছে।
এছাড়া মোট ৫৫ জন উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসক এই মিশনে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তিনটি বিমানে ৩৭ জন ক্রুও রয়েছেন।
উদ্ধার দলটি সঙ্গে খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, রান্নার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গেও নিয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮ টন শুকনো খাবার, ২.৫ টন পানি, ৪ টন ওষুধ, ১ টন স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং ১.৫ টন ত্রাণ তাবু পাঠানো হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫৫ সদস্যের উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কর্নেল মো. শামীম ইফতেখার।
"উদ্ধারকারী দলে আছে সেনাবাহিনীর ২১ জন, নৌবাহিনীর ২ জন, বিমানবাহিনীর ১ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ জন সদস্য। আর ২১ সদস্যের চিকিৎসা সহায়তা দলের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর ১ জন, বিমানবাহিনীর ২ জন এবং অসামরিক ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন।"
মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওষুধ, ত্রাণ সামগ্রী এবং ৫৫ সদস্যের বাংলাদেশ উদ্ধার ও চিকিৎসা দল নেপিদোতে পৌঁছেছে দুপুর ২টায়।
মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম মনোয়ার হোসেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ চ তুনের কাছে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন।
দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আফতাব হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে প্রথম দফায় ত্রাণ সহায়তা মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মিশনে ওষুধ, তাবু, শুকনো খাবার এবং একটি মেডিকেল টিম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মিয়ানমারে শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১৯ জনে, আহত হয়েছেন ৪,৫২১ জন এবং ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি।
ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মান্দালয়ের ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে। এতে মান্দালয়, সাগাইং ও ইয়াংগনের পাশাপাশি রাজধানী নেপিদোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
