১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

'আশ্বাস' বাস্তবায়নে সময় বেঁধে দিয়ে ফের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের

দাবি পূরণের জন্য সরকারকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Nov 2025, 07:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

বেতন বৃদ্ধি ও উচ্চতর গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সরকারের দেওয়া 'আশ্বাস' বাস্তবায়নে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। 

সেইসঙ্গে ৮ নভেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষকদের লাঠিপেটা এবং ‘সাউন্ড গ্রেনেডে' অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া শিক্ষক ফাতেমা আক্তারের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণাঙ্গ পেনশন এবং আহত শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় খরচে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

২৯ নভেম্বরের মধ্যে তিন দফা আশ্বাস পূরণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে আবারও লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। 

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা 'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ'। 

দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলে শিক্ষকরা। 

সেদিন বিকালে তারা ‘কলম বিরতি কর্মসূচি’ পালনে মিছিল নিয়ে শাহাবাগের দিকে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে শাহবাগ থানার সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে, কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে তাদের শহীদ মিনারে ফেরত পাঠানো হয়।

এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা পরদিন থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন।

পরে গত ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বৈঠক হয়। সেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এবং উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে সরকারে আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে ওইদিন রাতে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন৷ 

এরপর গত রোববার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার। 

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, "১০ নভেম্বর পরিষদের নেতাদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সভার যেসব সিদ্ধান্ত ও সে অনুযায়ী দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিন দফা দাবির প্রজ্ঞাপন বা দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি থাকবে।

"তিন দফা দাবির আশ্বাস বাস্তবায়ন, আহত শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণসহ তাকে পূর্ণ পেনশন প্রদানের দাবি করছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিন দফা দাবির প্রজ্ঞাপন বা দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি চলবে।”

প্রাণ হারানো শিক্ষক ফাতেমা আক্তারকে স্মরণ করে তিনি বলেন, "মরহুমার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে আমরা এই নারকীয় ও অমানবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আহত শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণসহ তাকে পূর্ণ পেনশন প্রদানের দাবি করছি।" 

গত ১০ নভেম্বর শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ শিবলী সাদিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তমতে উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, সেটি অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছে, বিষয়টি কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। 

“জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।”

শিক্ষকদের ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতা নিরসন করতে সেদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলে তা পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। 

শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে বলেও সভায় তুলে ধরা হয়।