Published : 11 Dec 2025, 02:28 PM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা আক্তারকে ছয় দিন এবং তার স্বামী রাব্বিকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম বৃহস্পতিবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম ছয় ও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশীদ জানান।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুনুর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করেন।
কাইয়ুম হোসেন আদালতকে বলেন, “এটা একটা বিভৎস ঘটনা। ঢাকা শহরে এর আগে এমন বিভৎস ঘটনা দেখিনি। আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মাদের গৃহকর্মীর কাছে বাসায় রেখে আসি। তারা যদি এমন করে, তাহলে আমরা কাদের ওপর ভরসা করব। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কেউ কিনা, তা জানার জন্য রিমান্ড প্রার্থনা করছি।”
আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ফুফু শাশুড়ির বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত সোমবার ঢাকার মোহাম্মদপুরের এক বাসায় ৪৮ বছর বয়সী লায়লা আফরোজ এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে গলা কেটে খুন করা হয়।
ওই বাসায় কাজ করতেন আয়েশা। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার আগে পরে কেবল তাকেই ওই বাসায় ঢুকতে এবং বের হতে দেখা যায়।

হত্যাকাণ্ডের দিন সোমবার রাতে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম। তার দুই দিন পর আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তারের খবর দেয় পুলিশ।
মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে।
প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যান আজিজুল। স্কুলে পরীক্ষা চলমান থাকায় বাসায় ফেরেন তাড়াতাড়ি।
বেলা ১১টার দিকে ফিরে বাসার এসেই তিনি স্ত্রী-কন্যার লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের বাসিন্দারা বেরিয়ে আসেন, খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
ভবনের একাধিক সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলে, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসায় ঢোকেন আনুমানিক ২০ বছর বয়সী আয়েশা। আর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওই স্কুলড্রেসটি ছিল খুন হওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার।

ঘটনার পর দারোয়ান খালেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তিনি পুলিশকে বলেছেন, চার দিন আগে বাসায় কাজের জন্য আসায় তরুণীকে ওই ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ওই তরুণী তার পূর্বপরিচিত নন।
ভিডিও ও দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, সোমবার সকাল ৭টার পর আয়েশা যখন আসে, স্বাভাবিকভাবেই বাসার নিরাপত্তাকর্মী খালেক তাকে ভেতরে যেতে দেন। কিন্তু বের হওয়ার সময় স্কুলড্রেস পরে যাওয়ার সময় তার মুখে মাস্ক থাকায় গেটে দায়িত্বরত থাকা খালেক চিনতে পারেননি।
জোড়া খুনের এ ঘটনায় আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।