Published : 18 Nov 2025, 06:53 PM
কোনো কারখানায় ২০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক থাকলে সেখান থেকে ২০ জন শ্রমিক মিলেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করতে পারবেন, যেখানে এতদিন ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি প্রয়োজন হত।
সংশোধিত শ্রম আইনে এই পরিবর্তন এনে মঙ্গলবার অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে শ্রমিকদের সংগঠন করার সুযোগ বাড়ল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গত ২৩ অক্টোবর আইন সংশোধনের প্রস্তাবে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রায় একমাস পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি হল।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ জন পর্যন্ত হলে ন্যূনতম ২০ জন; ৩০১ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত ৪০ জন; ৫০১ থেকে ১৫০০ জন পর্যন্ত ১০০ জন; ১৫০১ থেকে ৩০০০ জন পর্যন্ত ৩০০ জন; এবং ৩০০১ জন থেকে বেশি হলে ৪০০ জন শ্রমিকের সম্মতি থাকলেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করতে নিষেধ করা হয়েছে।
আন্দোলন ঠেকাতে শিল্পমালিকরা অনেক সময় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেন। সে রকম হলে শ্রমিকদের নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
এবারের সংশোধনীতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনের কয়েক জায়গায় থাকা ‘মহিলা’ শব্দটি ‘নারী’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের দিন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, “অধ্যাদেশে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের কল্যাণে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইএলওতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ চলমান আছে। সেখান থেকে কিছু সুপারিশ রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”
সংশোধনী ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এখন থেকে অলাভজনক সংস্থার ক্ষেত্রে শ্রম আইন প্রযোজ্য হবে। গৃহপরিচারক, নাবিক এখন শ্রমিক হিসেবে আইনি সুরক্ষা পাবেন। একই কাজ ছেলেরা এবং মেয়েরা করলে মেয়েদেরকে কম বেতন দেওয়া হতো। সেই বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির যে বিধান তা শক্তিশালী করা হয়েছে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পুনর্বাসন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে।”