গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের মৃত্যু, হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে, যার অধিকাংশই করা হয়েছে হত্যার অভিযোগে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে যে মামলার হিড়িক শুরু হয়েছে, সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি মামলা।
এবার মামলা হয়েছে সরকার পতনের আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন সজলকে (১৯) গুলি করে হত্যার পর মরদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগে।
বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহতের ভাই মিজানুর রহমান।
আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে আশুলিয়া থানাকে আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৫ অগাস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করছিলেন। সেই আন্দোলন দমনের জন্য পুলিশ নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং গ্রেপ্তার করে।
“ওই সময় সিটি ইউনিভার্সিটির বিএসসি (টেক্সটাইল) দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মো. সাজ্জাদ হোসেন সজলকে (১৯) আটক করে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলে। পরে তার মরদেহ ধ্বংস/গুম/নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে আরও অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আশুলিয়া থানার সামনে রাস্তার ওপর রাখা পুলিশের ব্যবহৃত লেগুনায় থাকা সজলের মরদেহসহ অন্য ছাত্রদের মরদেহ পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়,” বলা হয়েছে মামলার আবেদনে।
গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ১৩ অগাস্ট।
এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই করা হত্যার অভিযোগে।
