১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানারাতের ছাত্র নাসিম হত্যায় বন্ধুর প্রাণদণ্ড

২০১৭ সালের নভেম্বরে বাসার নিচে ছুরি মেরে নাসিমকে হত্যা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 03:48 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

প্রায় নয় বছর আগে রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম আহমেদ এমাজউদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তার বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানজীল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসিফকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নাসিম। সেখানে কয়েকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি তাদের থামতে বলেন।

সেখানে থাকা রমজান তাকে জানান, তারা টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছিলেন। নাসিম তাদের বাজি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে নিষেধ করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

আসিফ একপর্যায়ে রমজানকে থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি নিয়ে রমজানসহ কয়েকজন আসিফের বাসায় গিয়ে তাকে হুমকি দেন। পরে আসিফও তাদের ফোন করে হুমকি দেন।

পরদিন ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন আসিফ। বাসার নিচে নামার পর তিনি নাসিমকে ছুরিকাঘাত করেন।

ছুরিকাহত নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় নাসিমের বাবা গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওইদিনই বাড্ডা থানায় আসিফ, রমজান, আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুস সোবহান ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসিফকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তবে রমজান, আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আসিফ পলাতক থাকায় ২০২২ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। শুনানি শেষে মঙ্গলবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল আদালত।