০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

গভীর নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে, নাম কী হবে?

“এর তেমন প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 01:47 PM

Updated : 01 Nov 2026, 01:58 PM

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও পাশের আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি আজই ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে এর তেমন প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।”

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে রোববার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সোমবার নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল নাগাদ এটি অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

কয়েকদিন আগেই ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব৷ তাতে কয়েকজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থারত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’। তামিল ভাষার মুরাসু শব্দের অর্থ ঢোল। ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে ভারত।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আওতাধীন উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর) ১৩টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন এই নামকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্য জায়গায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে, ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সন্দ্বীপে।