“বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় মধ্যাত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে, তাদেরকে চিহ্নিত করতে বলেছি,” বলেন তিনি।
Published : 18 Feb 2025, 08:43 PM
সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য ডিসিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মঙ্গলবার সন্ধায় ডিসি সম্মেলনে তার মন্ত্রণালয়ের আলোচনা শেষ তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “কেউ যেন মসজিদ, মাজার, মন্দির, প্যাগোডা অথবা চার্চে কোনো ধরনের অপবিত্রতা করতে না পারে সেজন্য তাদের অনুরোধ করেছি।”
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে ছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আলোচনা।
উপদেষ্টা বলেন, ডিসিরা অতীতেও সাড়া দিয়েছেন। আগামী দিনও যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি অব্যাহত থাকে, সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বলেছেন।
“অপরাধী ধরা পড়লে তাদেরকে সাথে সাথে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। এছাড়া সরকারিভাবে হাজীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাদেরকে উদ্যোগী হতে বলেছি।”
তিনি বলেন, “বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে। তাদেরকে চিহ্নিত করতে বলেছি।”
২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।
৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকায় যে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ হাতে নেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয় ২০২১ সালে। ২০২৪ সালের জুন নাগাদ বাকী মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল।
এ বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত ৩৫০টি মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেছি। এছাড়া ২১৪টি মডেল মসজিদ আমরা নির্মাণ করব উপজেলাগুলোতে।
“এগুলোর সাইট সিলেকশন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। আমরা তাদেরকে ভালো সাইট দেখতে বলেছি। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী যাতে উন্নত হয় সেই বিষয়ে কঠোর হতে বলেছি।”
বিভিন্ন জেলায় অনেক দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “এগুলো পাবলিক দখল করে নিয়েছে। মতিঝিলে একটা দেবোত্তর সম্পত্তি আমরা উদ্ধার করেছি। ওখানে আমরা মাল্টিস্টোরেড একটা বিল্ডিং করব।”
শত শত জায়গায় ওয়াকফ স্টেট বেহাত হয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেগুলো আমরা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি।
“এছাড়া আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হাই কোর্টে একটি স্বতন্ত্র বেঞ্চ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওয়াকফ মামলাগুলো সেখানে শুনানি হবে। যারা বছরের পর বছর মামলা করে সম্পত্তিগুলো খেয়ে ফেলছে, তাদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারে।”
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সব কাজ ডিসি ও ইউএনও সঙ্গে যুক্ত তুলে ধরে খালিদ হোসেন বলেন, “আমরা যাতে বৈষম্যহীন কল্যাণমুখী দেশ গঠন করতে পারি সেই জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি।”