Published : 12 Aug 2026, 04:51 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলা বিচার জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বিচারিক আদালতে স্থানান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
ঘটনার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রীর বাসার নিচ তলায় জোবায়েদকে ছুরি মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।
এ ঘটনায় দুইদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো.আশরাফ হোসেন।
অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান, মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ‘ত্রিভুজ প্রেমের’ কাহিনী উঠে আসে।
গেল ১৫ জুলাই অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক অভিযোগপত্রটি দেখে তা গ্রহণ করার জন্য ১২ অগাস্ট, বুধবার দিন রাখেন।
এদিন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে বিচারিক আদালতে পাঠানোর আদেশ দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মত গেল ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর বাড়ি রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়ানোর জন্য যান।
বিকাল ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই কামরুল হাসান সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানান, ‘জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছে, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে’।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুল হাসান সন্ধ্যা ৭টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাটি জানান।
এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান।
এনায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে জোনায়েদকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে হত্যা করেছে।
মামলার আসামি বর্ষা, তার প্রেমিক মাহির রহমান, মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান ২১ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ 'ত্রিভুজ প্রেমের বলি'
ছাত্রীর প্রেমিকের সন্দেহের বলি ছাত্রদলের জুবায়েদ, ধারণা পুলিশের
জগন্নাথের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: ছাত্রী আটক
ভবনের সিঁড়িতে পড়ে ছিল জগন্নাথের ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত লাশ
জবির জুবায়েদ হত্যা: 'পুরোটাই ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী' বলছে পুলিশ