Published : 20 Oct 2025, 12:25 AM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যায় ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ছাত্রীকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাত ১১টার পর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেন থেকে ওই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা।
এসময় পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, “তাকে (ওই ছাত্রীকে) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে যে ভবন থেকে জুবায়েদের লাশ উদ্ধার করা হয়, সেটির পঞ্চম তলায় বসবাসকারী ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় ওই ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে জুবায়েদের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ভবনের পাঁচ তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকা ওই ছাত্রীকে গণিত ও বিজ্ঞান পড়াতেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র জুবায়েদ।

এদিকে রাত ১১টা পর্যন্ত জুবায়েদের লাশ ওই ভবনেই ছিল। পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত ইউনিট পিবিআই’র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পরে রাত ১১টার দিকে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে হত্যার খবর পেয়ে জুবায়েদের বন্ধু ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে নূর বক্স লেনে ছুটে যান। তারা বাড়িটির নিচে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান।
পরে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁতীবাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে। প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা আটকে রাখার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে বংশাল থানার দিকে রওনা হয়। পরে সেখানে অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন।
থানার সামনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ‘আমার ভাই মর্গে, খুনি কেন বাহিরে’ ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে, প্রশাসন কি করে’ ‘প্রশাসনের তালবাহানা, চলবে না, চলবে না’ এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন
ভবনের সিঁড়িতে পড়ে ছিল জগন্নাথের ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত লাশ