Published : 07 Sep 2025, 10:02 PM
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবির আন্দোলনের সময় নগর ভবন বন্ধ থাকলেও সেসময় প্রায় কোটি টাকার জ্বালানি খরচের বিল তোলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার নগর ভবনে এ বিষয়ে অভিযান চালানোর পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, “অভিযানকালে (অনুসন্ধান) দল দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল-ভাউচার, গাড়ির লগবুক, ফুয়েল কুপন ইত্যাদিসহ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সমুদয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। এছাড়াও অনুসন্ধান দল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
“সংগৃহীত রেকর্ডপত্রে দেখা যায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম ৪০ দিন বন্ধ থাকলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তেল খরচের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে বলে অনুসন্ধান দলের কাছে প্রতীয়মান হয়।”
দুদক বলেছে, অভিযানকালে সংগ্রহ করা সব রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে অভিযানকারী দলটি কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। একই সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।
এর আগে সংস্থার উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম নগর ভবনে এ অভিযান শুরুর তথ্য দিয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে এ বিষয়ক এক প্রতিবেদনের পর দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার আন্দোলনের কারণে ৪০ দিন নগর ভবনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কর্মকর্তাদের অনেকে তখন একদিনও অফিসে আসেননি। তবু সংস্থার বরাদ্দ করা গাড়ির বিপরীতে প্রতিদিন ১৪-১৫ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়েছে।
ডিএসসিসির হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটিতে প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। গত মে ও জুন মাসে নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ থাকলেও খরচ হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের সমান তেল।