১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মতিঝিল আইডিয়াল: ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন সেই মুশতাক

বিচারক ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মুশতাকের জামিন আদেশ দেন।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jan 2024, 11:34 AM

Updated : 24 Jan 2024, 11:34 AM

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও জোর করে বিয়ে করার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীন মঙ্গলবার তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মুশতাক। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মুশতাকের জামিন আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোকলেচুর রহমান জানান।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকেও জামিন পেয়েছিলেন মুশতাক। সে সময় উচ্চ আদালত মুশতাককে বিচারিক আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল।

ধর্ষণের অভিযোগে মুশতাকের বিরুদ্ধে গত ১ অগাস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এ মামলা করেন ছাত্রীর বাবা।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি গুলশান থানাকে এজাহার হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করার আদেশ দেয় আদালত। ওই মামলায় মুশতাকের সঙ্গে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, “বিভিন্ন অজুহাতে মুশতাক কলেজে আসতেন। এবং ওই ছাত্রীকে ছাত্রীকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে আনতেন। খোঁজ-খবর নেওয়ার নামে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতেন। কিছু দিন পর মুশতাক ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে এবং তার পরিবারকে ঢাকা ছাড়া করার হুমকি দেন।"

মামলায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে মুশতাকের বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিল ওই শিক্ষার্থী। এরপর অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে অধ্যক্ষ মুশতাককে তার কক্ষে ডাকেন এবং ছাত্রীকেও ক্লাস থেকে ডেকে নেন তার রুমে। এবং কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে মুশতাককেকে ‘সঙ্গ দিতে’ বলেন।

বাদীর ভাষ্য, "অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদীর কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি, বরং মুশতাককে ‘অনৈতিকভাবে সহযোগিতা’ করেন। এরপর গত গত ১২ জুন ছাত্রীকে তার ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুশতাক তার লোকজন দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়ি থেকে ছাত্রীকে ‘অপহরণ’ করেন।

বাদী আরও দাবি করে, অপহরণের পর তিনি জানতে পারেন, মুশতাক তার মেয়েকে ‘অনৈতিক কাজ করতে’ বাধ্য করছেন।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)