Published : 28 Aug 2025, 03:40 PM
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিলের অনুমতি দিয়ে ফের শুনানির জন্য ৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।
আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ৬৯ আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন বলেন, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত ফের আপিল শুনবেন।”
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয় গত ২৭ এপ্রিল; যা ৩০ জুলাই শেষ হয়।
রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ১৯৮৬ সালে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। ২০০০ সালে এটি সংশোধন করা হয়।
সংশোধিত এ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৬ সালে হাই কোর্টে রিট মামলা করেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দেয় হাই কোর্ট। জেলা জজদের পদমর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয় সেখানে।
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ে আটটি নির্দেশনা দেয় হাই কোর্ট। সে অনুসারে নতুন তালিকা তৈরি করতে সরকারকে ৬০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তখন আপিলের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সে আপিল নিষ্পত্তি করে সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ ২০১৫ সালে রায় দেয়।
আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়–
১. সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে।
২. জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যরা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ২৪ থেকে ১৬ নম্বরে সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন।
জুডিসিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ জেলা জজ। অন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিবরা রয়েছেন।
৩. অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে।
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্র বা অন্য কোনো কার্যক্রমে যেন এর ব্যবহার হয় না।
ওই সময় রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হওয়ার পর তৎকালীন অতিরিক্ত আ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেছিলেন, “হাই কোর্টের রায়টি মোডিফাই করে আপিল বিভাগের রায় দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেছিলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে নতুন কয়েকটি বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের ‘যথাযথ সম্মান’ দিতে বলা হয়েছে।
“আরেকটা বিষয় বলা হয়েছে – যারা সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাদেরকে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয় অন্যান্য পদের উপরে।”
গত ৯ জানুয়ারি দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম ঠিক করতে আপিল বিভাগে দ্রুত রিভিউ শুনানির আবেদন করে বিচারকদের সংগঠন জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
পুরনো খবর
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদাক্রম নিয়ে রিভিউয়ের রায়
শুধু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রয়োগ হবে রাষ্ট্রীয় পদ মর্যাদাক্রম
রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রমে কেন সম্পাদকরা নেই: হাই কোর্ট
'যথাযথ পদমর্যাদা' চান ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা