Published : 11 May 2026, 06:51 PM
আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় মামলা চালু সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
তিনি বলেছেন, সেক্ষেত্রে সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পরিদর্শকদের ম্যানুয়াল মামলা ‘খুব একটা করা লাগবে না’। যেকোনো স্থানে ট্রাফিক আইন বা মোটর ট্রান্সপোর্ট আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয় মামলা হবে।
সোমবার দুপুরে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌর শক্তির ‘ট্রাফিক সিগনাল লাইট’ উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সিটি করপোরেশন গত কয়েক মাসে জাহাঙ্গীর গেট থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সাতটি ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট বসিয়েছে। এছাড়া গুলশান-১ নম্বরে আগে থেকেই ছিল, আর গুলশান-২ নম্বরেও সিটি করপোরেশন সিগনাল লাইন স্থাপন করেছে বলে তথ্য দেন তিনি।
এর বাইরে হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি পয়েন্টে সিগনাল লাইট বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, যা কয়েকদিনের মধ্যে চালু হবে। এর বাইরে ১৫টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগনাল লাইট বসিয়েছে ডিএমপি।
ইতোমধ্যে ঢাকার ৩০ পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “সফটওয়ারের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা বা অটোমেটিক মামলা করা শুরু করেছি গত সপ্তাহ থেকে।
“সফটওয়্যারটি আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করছে। এই ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে আমাদের সঙ্গে বিআরটিএ ডাটাবেজের যে সংযোগ আছে, সেখান থেকে মালিকদের ঠিকানা নিয়ে প্রসিকিউশন চিঠি পাঠানো হচ্ছে।”
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে, সে অনুযায়ী তারা জরিমানা পরিশোধ করবে।
বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে, প্রতিদিন হয়ত এক হাজার মামলা হবে।”
গেল ২০২২ সাল থেকে জরিমানা পরিশোধ করেনি, এমন প্রায় এক লাখ মামলা পুলিশের কাছে পড়ে ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরো ৩৮ হাজার মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
সড়কে গতি আনতে ইতোমধ্যে ঢাকার প্রায় ৭০টি স্থানের কোথাও ইউটার্ন, কোথাও রাইট টার্ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
“২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় গতিবেগ ছিল ৫ কিলোমিটার এর নিচে, কিন্তু ২৫-২৬ সালে আমরা মনে করি ঢাকায় মহানগরের গাড়ির গড় গতিবেগ এখন ১০ কিলোমিটারের বেশি হয়ে গেছে।”
কুড়িল বিশ্বরোডের চাপ কমাতে ৩০০ ফুট থেকে ইউনাইটেড গ্রুপ-স্বদেশ ভ্যালি-আফতাবনগর পর্যন্ত একটি সড়ক চালু করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থা যে বিশৃঙ্খলা ছিল, সেটা থেকে শৃঙ্খলা আনতে হলে আমাদের একটু সময় লাগবে। ধীরে ধীরে সব সেক্টরেই আমরা হস্তক্ষেপ করে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালো করব।”