১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেব্রুয়ারিতে ‘অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ নির্বাচনের অঙ্গীকার ইউনূসের

কিছু মহল ভোট ‘বিলম্বিত করার চেষ্টা’ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন করবে বলে এমইপিদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ফেব্রুয়ারিতে ‘অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ নির্বাচনের অঙ্গীকার ইউনূসের
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) মুনির সাতৌরির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: পিআইডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 09:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর’ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) মুনির সাতৌরির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। 

পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রধান উপদেষ্টা প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছি। এটি রমজানের ঠিক আগে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে।’

“তিনি আরও জানান, জনগণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে, কারণ দীর্ঘদিন পর—কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর—ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

কিছু মহল ভোট ‘বিলম্বিত করার চেষ্টা’ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন করবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। 

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ এবং উৎসবমুখর।” 

তরুণ ভোটাররা রেকর্ডসংখ্যায় ভোট দিতে আসবে– এমন আশা প্রকাশ করে ইউনূস বলেন, তাদের অনেকের জন্য এটি ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ।

“ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা হবে। এটি আমাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে—জাতির জন্য এক নতুন যাত্রা,” বলেন প্রধানর উপদেষ্টা। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক ঘণ্টার বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও এমইপিরা সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত সমর্থন, এবং চলমান রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমইপিরা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে। 

একজন আইনপ্রণেতা গত ১৪ মাসে প্রধান উপদেষ্টা ও তার দলের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন।

একজন ডাচ এমইপি বলেন, বাংলাদেশ সম্ভবত সেই কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে ‘পরিস্থিতি সঠিক পথে এগোচ্ছে’।

প্রধান উপদেষ্টা ইইউর ‘অবিচল সমর্থনের জন্য’ কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশে বসবাসরত দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য অতিরিক্ত সহায়তার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি সহায়তার ঘাটতির কারণে আশ্রয় শিবিরগুলোতে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তবায়িত শ্রম সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।