০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সেই লুৎফরের বিরুদ্ধে মক্কায় বিক্ষোভ চেষ্টার অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের শোকজ

“হাজিরা ভালো সেবা না পেয়ে স্ব-প্রণোদিত হয়ে মক্কায় মিশনে গিয়ে লিখিত প্রতিবাদ করে এসেছেন,” দাবি মোনাজ্জেম লুৎফরের।

সেই লুৎফরের বিরুদ্ধে মক্কায় বিক্ষোভ চেষ্টার অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের শোকজ
লুৎফর রহমান ফারুকী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2024, 08:18 AM

Updated : 26 Aug 2026, 09:59 AM

এ বছর হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া ‘নর্থ বেঙ্গল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ এর মোনাজ্জেম লুৎফর রহমান ফারুকীর বিরুদ্ধে এবার মক্কায় বিক্ষোভ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এ অভিযোগে বুধবার তাকে কারণ দর্শানো নোটিস পাঠিয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। পাশাপাশি হাজিদের টাকা ব্যাংকে রেখে নেওয়া ঋণও পরিশোধ করতে বলেছে মন্ত্রণালয়।

নোটিসে বলা হয়েছে, “লুৎফর রহমান নিজের শাস্তি মওকুফের জন্য বিভিন্ন বাক্য সম্বলিত একাধিক লিফলেট, প্ল্যাকার্ড হজযাত্রীদের বুকে ও পিঠে সংযুক্ত করে গত ৬ জুলাই মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশন ভবনের সামনে প্রায় ২ শতাধিক হজযাত্রী নিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন।

“হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ফারুকী ও তার ছেলে তৌকির আহম্মেদ সোয়াইব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য হাজীদের মিশন ভবনের সামনে বিক্ষোভের জন্য পাঠান। এ ধরনের কার্যক্রম সৌদি আরবের আইন পরিপন্থি। এর ফলে হাজীদের স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।”

তবে মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে লুৎফর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “হাজিরা ভালো সেবা না পেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মক্কায় মিশনে গিয়ে লিখিত প্রতিবাদ করে এসেছেন।”

গাজীপুর এয়ার ট্রাভেলস লিমিটেড নামে লাইসেন্স বাতিল হওয়া একটি এজেন্সির স্বত্বাধিকারী লুৎফুর এবার নর্থ বেঙ্গল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের একটি হজ এজেন্সির মোনাজ্জেমের দায়িত্বে ছিলেন। যশোরের বাসিন্দা লুৎফরের অফিস মতিঝিলে।

হজের ক্ষেত্রে একজন মোনাজ্জেমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। হজের আইন ও নিয়ম কানুন জানা এ ব্যক্তি নিযুক্ত এজেন্সির হয়ে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

চলতি বছর ৬৮২ জন হজযাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। লুৎফর এসব হজযাত্রীদের টিকেটের অর্থ নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিলে তাদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। হজযাত্রীদের বিপরীতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মহাখালী শাখা হতে ঋণ নেন তিনি। এরপরই দেশ থেকে পালিয়ে যান।

পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে দুই দফায় জটিলতা নিরসন করে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

লুৎফরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলে, “এ বছর আবারও মোনাজ্জেম হয়েও হজযাত্রীদের মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া না করে, ভিসা না করে এবং বিমান টিকিট কেনার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করে লুৎফর গোপনে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

“তার এমন প্রতারণার কারণে সৌদি আরবে সরকারের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। তার এমন কাজ দেশ বিরোধী।”

নতুন অভিযোগ প্রসঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, “ফারুকী ও তার ছেলে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই হজযাত্রীদের ব্যবহার করে তাদের বিপদে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিক্ষোভ চেষ্টার কিছুক্ষণ পরেই সৌদি পুলিশ বাংলাদেশ হজ মিশন অফিসে এসে এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে। এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

“দেশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য কেন লুৎফর এবং তৌকির আহমেদ সোয়াইবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হল।”

অনিশ্চয়তা কাটল আরও ৩৬৪ হজযাত্রীর, প্রতারণার দায়ে নিষিদ্ধ এক মোনাজ

মন্ত্রণালয় শোকজ নোটিসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সমুদয় পাওনা পরিশোধেও তাকে নির্দেশ দিয়েছে।

জানতে চাইলে লুৎফর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মক্কায় দূতাবাসের সামনে হাজীদের উৎসাহ দিয়ে বিক্ষোভ করাতে পাঠানোর বিষয়টি সঠিক নয়। এর আগেও আমাকে যখন নিষিদ্ধ করা হল, বলা হল- আমি অর্থ আত্মসাৎ করা পালিয়ে এসেছি। কিন্তু হাজিরা সৌদি আরবে এসে এত ভালো সেবা পেয়েছেন, পরে তারাই বলেছেন, আমরা এত ভালো সেবা পেলাম, তাও এমন কথা বলল মন্ত্রণালয়, এটার প্রতিবাদ করা উচিত। তারা স্ব-প্রণোদিত হয়ে মক্কায় মিশনে গিয়ে লিখিত প্রতিবাদ করে এসেছেন।”

লুৎফর বলেন, “যেদিন হাজিরা গেছে, সেদিন আমি মক্কায়ই ছিলাম না।”

তাহলে কোথায় ছিলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “মক্কার আশেপাশেই ছিলাম। আমার কাছে উপযুক্ত উত্তর আছে। নোটিস পেয়েছি গতকাল (বৃহস্পতিবার)। আমি যথাসময়ে নোটিসের জবাব দিব।”