Published : 14 Sep 2026, 06:22 PM
বছর তিনেক আগে ঢাকার দক্ষিণখানে কানাডা প্রবাসী এক নারীকে হত্যার পর পুঁতে রাখার ঘটনায় করা মমলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে।
ওই নারীর স্বামী কানাডা প্রবাসী আশরাফুল আলমসহ পাঁচজন আসামির বিচার শুরু হবে কিনা, হলে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে আদেশের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছে আদালত।
ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সরওয়ার আলম সোমবার শুনানি শেষে আদেশের এ দিন রাখেন।
ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাসান আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ২৬ মে দক্ষিণখানের নদ্দায় স্ত্রী মোছা. আফরোজাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আশরাফুলসহ অপর আসামিরা। এ ঘটনায় আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আশরাফুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই রেজিয়া খাতুন।
আফরোজাকে খুন করে কানাডা পাড়ি জমান আশরাফুল। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-আফরোজার শ্বশুর শামছুদ্দিন আহমেদ, দেবর সজীব আলম, সজীবের স্ত্রী তাহমিনা বাশার ও খালাশাশুড়ি আইনজীবী পান্না চৌধুরী। তারা জামিনে আছেন।
সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আশরাফুলকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। অপর আসামিরা আদালতে আসেন।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
স্ত্রী মোছা. আফরোজা ও ১৭ বছর মেয়ের সঙ্গে কানাডায় চলে যাওয়া আশরাফুল আলম সুমন, যাকে পরে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাদীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদ আল মামুন হিমু।
শুনানিতে আইনজীবী খোরশেদ আলম আদালতকে বলেন, “আশরাফুল আলম খুন করেছেন, এটা তিনি স্বীকার করেছেন। অন্য আসামিরা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত না।”
পান্না চৌধুরীর বিষয়ে তিনি বলেন, “এ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মতো কোনো উপাদান নেই। তার অব্যাহতির প্রার্থনা করছি।”
এর বিরোধিতা করে ওই আদালতের প্রসিকিউটর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “তদন্তের সময় প্রধান আসামি আশরাফুল আলম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেন অন্য আসামিদের সহায়তায় তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।”
বিচারক বলেন, “এটা একটা হত্যা মামলা। এ পর্যায়ে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তখন খোরশেদ আলম ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “উচ্চ আদালত থেকে নুসরাত হত্যা মামলার ১০ আসামির মধ্যে দুই জনের ফাঁসি বহাল থাকে, আর একজনের যাবজ্জীবন সাজা হয়। ৭ আসামি খালাস পান।
“অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ গঠন করে সাজা দেওয়ায় বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ এর প্রতিবাদ জানান।
এসময় বিচারক বলেন, “তাহলে আমারও বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেন।”
পুরনো খবর:
দক্ষিণখানে স্ত্রীকে হত্যা: কানাডা থেকে আশরাফুলকে আনার ‘চেষ্টা’
স্ত্রীর লাশ পুঁতে রাখার স্থান কানাডা থেকে ভিডিও কলে দেখালেন স্বামী