Published : 07 May 2026, 02:49 PM
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
একই মামলায় গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজমের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান।
গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই আন্দোলনে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের মামলায় তিন দফায় তাকে ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এরপর রমনা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তিন দফায় তাকে ১২ দিনের রিমাপন্ডে পায় পুলিশ। এরপর ৩ মে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আসামির পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
এদিকে সাহাবুদ্দিনের আজমের পক্ষে তার আইনজীবী মেহেদী ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হওয়া রুবেলকে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ অগাস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গত বছরের ১২ জুন বেনাপোল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা সাহাবুদ্দিন আজমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন রাতেই বিশেষ নিরাপত্তায় তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ১৯ জুন যাত্রাবাড়ীতে মাইনুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।