‘শরীফার গল্প’ বাতিলের সুপারিশে উদীচীর প্রতিবাদ
উদীচী বলছে, “বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে গল্পটি বাদ দেওয়া হলে তা পক্ষান্তরে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকেই প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল।”
দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের আলোচিত ‘শরীফার গল্প’ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
এর প্রতিবাদে শনিবার বিকাল ৫টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার উদীচীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “শরীফ-শরীফা গল্পটিতে সমাজের অন্যতম একটি জনগোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গ বা ‘হিজড়াদের’ নিয়ে একটি নিরীহ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে এই জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি সমাজের বাকিরা কী ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করে তা বর্ণনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব মানুষকে সমান চোখে দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।”
কিন্তু ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ গল্পটি নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে উদীচী বলেছে, “গল্পটিতে সমকামিতা ও যৌনতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সচেতন মানুষ যারা গল্পটি পড়েছেন, তারা সবাই একমত হয়েছেন যে এখানে শুধুমাত্র থার্ড জেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার ইতিবাচক প্রয়াস করা হয়েছে। সমকামিতা বা যৌনতার মত কোনো বিষয়ের অবতারণা করা হয়নি।
“উদীচী মনে করে, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে গল্পটি বাদ দেওয়া হলে তা পক্ষান্তরে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকেই প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল হবে।”
‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’ বিষয়ে ধারণা দিতে সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে জায়গা পেয়েছিল ‘শরীফার গল্প’।
বইয়ের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত ওই পাঠে শিক্ষার্থীরা পড়বে নারী-পুরুষের বাইরে ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ মানুষ বা ‘হিজড়াদের’ জীবনের কথা।
পাঠ্যপুস্তকটির পাঠের এ অংশ নিয়েই চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তুমুল বিতর্ক চলে দেশজুড়ে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ বিতর্কের সূচনা করেন আসিফ মাহতাব, যিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন।
রাজধানীতে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে এক আলোচনায় ‘সমকামিতার উসকানির’ অভিযোগ তুলে তিনি পাঠ্যবইয়ের ওই অংশের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। সেই ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
বইটি সম্পাদনার সঙ্গে যুক্তরা বলেন, সেখানে ‘হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের’ মানুষদের কথা বলা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার শব্দটি কোথাও লেখা হয়নি। সুতরাং এ পাঠকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিতর্ক আলোচনার মধ্যে ‘শরীফার গল্প’ পর্যালোচনায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পাঁচ মাস পর তারা ‘অসংগতির’ চিত্র তুলে ধরে বাতিলের সুপারিশ পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন-
