১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন ‘পতিত’ আমলের চর্চা: টিআইবি

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলেছে সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 07:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ ছেড়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন করার তীব্র সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির ভাষ্য, হুমায়ুন কবির যে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন তা ‘পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের’ প্রবণতা। 

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাক স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্ব করার এমন আত্মঘাতী প্রয়াস পরিহারের কথাও বলেছে টিআইবি।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন হুমায়ুন কবির। সেখানে তার ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ থাকার বিষয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেন, “কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…”

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় ঢোকা এই বিএনপি নেতা বলেছেন, তিনি বাংলাদেশি হিসেবে মন্ত্রী হয়েছেন এবং তার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে বলে মনে করেন না।

টিআইবি বলছে, “টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংবাদকর্মীরা যখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন।

“সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়াকে তিনি যেভাবে ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলকভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তা পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের মত ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ চর্চার দৃষ্টান্ত।”

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মূল বিষয় ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেও হুমায়ুন কবিরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে, এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে’ বলেও বিবৃতিতে তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, “টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ অসাংবিধানিক। 

“সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অন্যদিকে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য। একইসঙ্গে ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টিও সুস্পষ্ট।

“অথচ বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে সংবাদকর্মীরা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, তখন প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর দেননি। বরং তিনি- ‘কে নিউজ করছে এবং কার এত জ্বালা’ বলে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। যা পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ চর্চারই প্রতিফলন।

“সংবাদটি কে করেছে বা কে প্রশ্ন তুলেছে, তা এখানে মূল বিষয় নয়। মূল প্রশ্ন হল, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না। এমন একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তার দায়িত্ব।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় পদকে কেন্দ্র করে। তাই এর আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বিতর্কের ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই

“এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ এবং তার নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।”