যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারলে কী আসে যাবে: প্রধানমন্ত্রী
“আমাদের দেশে এখন যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির কোনো কারণ খুঁজে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে না যেতে পারলে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি নেই।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিসা নীতি এবং র্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেন। শনিবার এই সাক্ষাৎকার প্রচার হয়।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ তারা ভিসা স্যাংশন দিতে চাচ্ছে কী কারণে? আর মানবাধিকারের কথা যদি বলে, ভোটের অধিকারের কথা যদি বলে, আমরা আওয়ামী লীগই তো বাংলাদেশের মাুনষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছি, আমাদের কত মানুষ রক্ত দিয়েছে ভোটের অধিকারের জন্য।”
র্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কোনো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যদি অন্যায় করে, তার বিচার হয়, এই বিচারে কেউ রেহাই পায় না। যেখানে এরকম বিচার হচ্ছে, এই ধরনের ব্যবস্থা আছে, সেখানে এই ধরনের স্যাংশন কোন কারণে?”
আওয়ামী লীগ ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “একটা ইলেকশন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুুষ্ঠু হবে, সেটা তো আমাদের দাবি ছিল, আমরাই সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন মানুষ তার ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তাই হঠাৎ এই ধরনের স্যাংশন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।”
তিনি বলেন, “তারা স্যাংশন দিচ্ছে, আরও দেবে, দিতে পারে। তবে আমাদের মানুষের ভোটের যে অধিকার, মৌলিক অধিকার, আমরা নিশ্চিত করেছি। এখন বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।
“সেখানে এভাবে স্যাংশন দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেওয়া …. ঠিক আছে আমেরিকা যদি স্যাংশন দেয়, আমেরিকায় আসতে পারবে না, আসবে না। না আসলে কী আসে যাবে? আমাদের দেশে এখন যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে।”
নির্বাচনে নিয়ে অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী গত এক দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো দেখিয়ে বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, মানুষ ভোট দিয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। বাংলাদেশে ভোট চুরি করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না। খালেদা জিয়া কিন্তু ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি করেছিল, সে কিন্তু দেড় মাসও টিকতে পারেনি।”
আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় না বলে যে দাবি বিএনপি করে আসছে, তার জবাবে সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৮ সালে কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি কয়টা সিট পেয়েছিল? মাত্র ২৯টা, পরে রিইলেকশনে ৩০টা। কেয়ারটেকারের অধীনে তাদের এই অবস্থা। এই কারণে তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে যায়নি।
“এরপর আসল ১৮ সাল, একটা সিটের পেছনে ৩টা নমিনেশন, লন্ডন থেকে একটা নমিনেশন, গুলশান থেকে একটা, পল্টন থেকে একটা। নিজেরা নিজেরা গণ্ডগোল করে একটা পর্যায় তারা সরে যায়। তবে যে কয়জন ইলেকশন করেছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন জিতেছিল। ওরা তো ইলেকশন কখনও সুষ্ঠুভাবে করে নাই, করতে চায় না।”
বিএনপির প্রতি জনগণ আস্থা নেই দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের নেতাটা কে? তারা ভোট দেবে কাকে? মানুষ নেতৃত্ব দেখতে চায়। বিএনপি কি কাউকে সামনে আনতে পেরেছে? নেতৃত্ব কোথায় যে দেশ পরিচালনা করবে।”
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি আওয়ামী লীগ বিবেচনা করবে কি না- সাক্ষাৎকার গ্রহীতা শতরূপা বড়ুয়া সেই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
জবাবে আদালতের রায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “উচ্চ আদালতের রায় ছিল, অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশে আসতে পারবে না। একটা নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে আরেকটা নির্বাচিত সরকারই আসতে হবে। সংবিদান সংশোধন করে সেই রায়কে কার্যকর করা হয়। এখন আমরা উচ্চ আদালতের রায় ফিরিয়ে দেব? কেনই বা করব? আমাদের তো তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। মার্শাল লয়ের অধীনে নির্বাচনী প্রহসন, কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচনী প্রহসনের।”
“এক সময় তারা এটার প্রতিবাদ করত, এখন দাবি করে, আগামীতে কী করবে, তার তো কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই,” বিএনপিকে নিয়ে বলেন তিনি।
গুম নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন ধরে প্রশ্ন করা হলে তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরকম অভিযোগ অনেকে অনেক রকম দেয়। কিন্তু তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি, নাম দিতে পারেনি। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক লোক নাই, কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে ঠিকই জীবিত আছে। অনেক সময় কেউ কেউ নিজেরাও পালায়, সেরকম ঘটনাও আছে।”
অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থাকে তদন্ত করার জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা তদন্ত করে দেখুক। তাদের এতই ইচ্ছা যদি থাকে, তারা নিজেরা তদন্ত করে না কেন? যারা হত্যাকারী, খুনি, বোমা হামলাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসী, তাদের নিয়ে তো কথা নেই। সেখানে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কোনো কথা নেই। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের মানবাধিকার নিয়ে তারা চিন্তিত!”
সাইবার নিরাপত্তা আইনে পুলিশকে অতিরিক্ত কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিআরপিসিতে যা আছে, সেটাই এখানে আছে। কেউ যদি একটা অপরাধ করতে থাকে, পুলিশ যদি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নাই ধরতে পারে, তবে তো ভেগে যাবে, মুছে দেবে।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে করে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময় সবার মতামত নেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আগেরটা নিয়ে আপত্তি ছিল, সেটা বাতিল করে দিয়েছি। সাজা-টাজা আগের চেয়ে সব কমানো হয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে, মানবাধিকারের স্বার্থে এই আইন।”
মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এখন মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি চাই, তারা নিজের দেশে ফিরে যাক।”
(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)
