গ্রাহকের অর্থ আত্মসাত: ব্যাংকারের ২৪ বছর, স্ত্রীর ৭ বছরের সাজা

আসামিদের অর্থদণ্ডের টাকা ৬০ দিনের মধ্য পরিশোধ করতে বলেছে আদালত।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 04:42 AM
Updated : 6 Feb 2024, 04:42 AM

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের দায়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বনানী শাখার সাবেক অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) জাহিদ সারোয়ারকে ২৪ বছর এবং তার স্ত্রী ফারহানা হাবিবকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন তিনি।

রায়ে আসামি জাহিদ সারোয়ারকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই আইনের ৪৬৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় তাকে দেওয়া হয়েছে ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

তার স্ত্রী ফারহানা হাবিবাকে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় তাকে দেওয়া হয়েছে ৪ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

এছাড়া জাহিদ সারোয়ারকে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ফারহানা হাবিবকে ৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। ওই অর্থ আদায় করে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে রায়ে।

অর্থদণ্ডের বাকি অর্থ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বনানী শাখায় জমা দিতে হবে। আসামিদের অর্থদণ্ডের টাকা ৬০ দিনের মধ্য পরিশোধ করতে বলেছে আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জাহিদ সারোয়ার ও ফারহানা হাবিব মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বনানী শাখার গ্রাহক ফেরদৌসী জামানের স্বাক্ষর জাল করেন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য তার নম্বর বদলে নিজেদের নম্বর দিয়ে দেন।

এরপর ফেরদৌসী জামানের স্বাক্ষর জাল করে চারটি চেক বই সংগ্রহ করেন ওই দম্পতি। তার মধ্যে তিনটি চেক বইয়ের ৬০টি পাতায় ফেরদৌসী জামানের স্বাক্ষর জাল করে এবং ১৬টি চেকে গ্রাহকের বেয়ারার ইশতিয়াক হোসেন তালুকদারের স্বাক্ষর জাল করে চার কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা। আত্মসাত করা টাকার মধ্যে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় ফারহানা হাবিবের মালিকানাধীন আশা ক্রিয়েশনের হিসাবে জমা করা হয়।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেন।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)