২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালে বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িক ভ্রমণ সতর্কতা

নেপাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং স্থগিত করেছে।

নেপালে বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িক ভ্রমণ সতর্কতা

নেপালে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: নেপাল সেনাবাহিনী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 07:41 PM

Updated : 28 Sep 2026, 07:41 PM

ভারি বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের কয়েকটি এলাকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সাময়িক ভ্রমণ সতর্কতা দিয়েছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার দূতাবাসের ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়, সব বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের নেপালে চলমান ভারি বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে এবং আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে দূতাবাস।

বিশেষত পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দূতাবাস বলেছে, “অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস এবং তুষারপাতের ফলে অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নিত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে।”

ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের পর বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ১৪ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

দেশটির কর্তৃপক্ষ ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে সম্ভাব্য হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় অর্ধেকেরও বেশি জেলা প্রবল বন্যা ও হড়পা বানের ঝুঁকিতে আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং স্থগিত করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাংলা ও ভীমথাং উল্লেখযোগ্য।

“এছাড়া ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ এবং নিকটবর্তী ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পোখারা ও আশপাশের এলাকা ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো যাচ্ছে। মুস্তাং, জমসম এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকার ভ্রমণের আগে গান্দাকি প্রদেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকা প্রয়োজন কেননা এসব সড়ক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক বিঘ্নিত হতে পারে।”

অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহন এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সব তথ্য যাচাই করা এবং নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ বাংলাদেশি পর্যটকদের দিয়েছে দূতাবাস।

তবে দূতাবাস বলেছে, এ ভ্রমণ সতর্কতা সাময়িক এবং কাঠমান্ডু ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এ সতর্কতার আওতামুক্ত।

নেপালে থাকা ভ্রমণকারীদের বিষয়ে দূতাবাস বলেছে, যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণ করছেন, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, নদীর তীর ও ভূমিধসের আশংকাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলা, ভ্রমণের আগে সড়ক ও আবহাওয়া পরিস্থিতি যাচাই করা এবং ট্রাভেল অপারেটর ও দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

পুরানো খবর:

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ মৃত্যু
ভারতে ও নেপালে বন্যা, ভূমিধসে নিহত ১৯