লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্তি, দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
মিসরাতা শহর থেকে আরও ১৭৫ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে দেশটিতে আটকে পড়া ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে লিবিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারা। রাজধানী ত্রিপোলিতে দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ফেরা অভিবাসীদের মধ্যে ৩৬ জন সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টার সময় আটক হন এবং পরবর্তীতে ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন।
বাকি ১৩৮ জন ত্রিপোলির ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত পরিবেশ থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। এই ১৭৪ জনের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গেছে।
প্রত্যাবাসনের আগে ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। এসময় দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর ও প্রথম শ্রম সচিব উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বুধবার মিসরাতা শহর থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে একই মানবিক সহায়তার আওতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও পরিণতি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “অবৈধ পথে বিদেশ গমনের ফলে চরম শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়, যা ব্যক্তি ছাড়াও তার পরিবার ও পুরো সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।”
তিনি দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা এবং ভবিষ্যতে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পথ অনুসরণের আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহায়তার অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত।
