Published : 23 Oct 2025, 08:34 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ যখন সাংবাদিকতা ও সংবাদসেবাকে আরেক বাঁক বদলের সামনে হাজির করছে, সেই সময় প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এ আনন্দানুষ্ঠানে সরকার ও রাজনৈতিক দলের নীতি-নির্ধারকরা যেমন থাকছেন; তেমনি থাকছেন বিচারপতি-আইনজীবী, ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তা, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী-সংগঠক, ক্রীড়া তারকা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা আর নানা ক্ষেত্রে বাঁক বদলের সাক্ষীরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন মুখপাত্র জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের বলরুমে বসবে এই মিলনমেলা।
প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বক্তব্য শেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। অনুষ্ঠানটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার শুদ্ধ চর্চার যে নতুন ধারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সৃষ্টি করেছিল, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় আরও বিনিয়োগের ইচ্ছার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “সংবাদের বিভিন্ন ফর্ম্যাট নিয়ে আমরা কিছু কাজ করছি, সেজন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন আছে।”
প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে বিগত সময়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরা আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারব। তবে যে কোনো মূল্যে আমরা দ্রুততার সঙ্গে সঠিক খবর পরিবেশন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাকরণ মেনে শুদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চা চালিয়ে যেতে চাই।”
১৯ বছরের বন্ধুর পথযাত্রায় যারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে ছিলেন এবং যারা ছিলেন না, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ এ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়।
২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা। বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা তখনই।
১৯ বছরের পথচলায় সংবাদের মোড়কে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যত ইতিহাস গ্রন্থনার কাজটিই করে গেছে। নিত্য নতুন উদ্ভাবনে উন্মোচন করে গেছে নতুন নতুন সংবাদ সেবা, যে পথ ধরে এগিয়ে এসেছে আরো অনেকে।
সময়ের উদ্ভাবনী মেজাজকে ধারণ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়েছে ‘মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট’। মোবাইল ফোনে সংবাদ সেবা, ইংরেজি ও বাংলায় ব্রেকিং নিউজ ও নিউজ অ্যালার্ট সেবায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমই বাংলাদেশে পথিকৃৎ। সব বয়সী, সব রুচির পাঠকের জন্যই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি করেছে আলাদা আলাদা ক্ষেত্র।
২০১৩ সালে দেশে নানা ঘটনায় মানুষের খবর জানার আগ্রহ যখন তুঙ্গে, গুগল অ্যানালিটিকসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউনিক ভিজিটর পৌঁছে যায় ৪৩ লাখে; নিকটতম প্রতিযোগী তখনও ২১ লাখে। এরপর উত্থান পতনে এগিয়েছে পরিসংখ্যান, টেনে ধরার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও পাঠক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সঙ্গে পেয়েছে সর্বক্ষণ। ২০১১ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যখন পঞ্চম বর্ষপূতি উদযাপন করে, ফেইসবুকে অনুসরণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৬ হাজার ২৫৭। পরের ১৪ বছরে তা কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
পাঠকের জন্য ২৪ ঘণ্টা দেশ-বিদেশের সর্বশেষ ঘটনার খবর বাংলা ও ইংরেজি- দুই ভাষায় বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ নিয়ে আসা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এই পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না।
সংবাদমাধ্যমটির একজন মুখপাত্র বলেন, “যখন আমরা শুরু করেছিলাম, ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের মত প্রযুক্তি তখন আমাদের চেনা পৃথিবীর পুরনো কাঠামোকে নতুন আদল দিচ্ছিল। সেই পরিবর্তনের সঙ্গী হয়ে বাংলাদেশের সংবাদসেবার ডিজিটাল রূপান্তরে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
“এখন বিশ্ব আরেক নতুন প্রযুক্তির মুখোমুখি, যা বদলে দেবে অনেক কিছু। সাংবাদিকতা আর সংবাদসেবায় সেই পরিবর্তন যেন ধংসাত্মক না হয়ে সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার দায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অনুভব করে।”
তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে তথাকথিত জনপ্রিয় ধারার বিপরীতে দায়িত্বশীল সম্পাদকীয় অবস্থান ধরে রাখতে পারা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই অঙ্গীকার ধরে রেখেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবর্তনের অভিযাত্রায় পাঠকের সঙ্গে থাকতে চায়।”