Published : 30 Jul 2025, 09:16 PM
উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি নিয়ে আর দেশে না ফেরা এবং টানা তিন বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
তাদের মধ্যে পাঁচ জন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। একজন তিন বছরের বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত ছিলেন।
বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বরখাস্ত কর্মকর্তারা হলেন– গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহানা আহমেদ এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি, আবদুল্লা আল মামুন, মোছা. রাহানুমা তাজনীন ও সহকারী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম।
এছাড়া স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহকারী স্থপতি শিরাজী তারিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এসব কর্মকর্তা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রণালয় বলছে, ফারহানা আহমেদ কানাডার রাইসন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স করতে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। কোর্স শেষে তিনি অধিদপ্তরে যোগ দেননি।
মনিরুজ্জামান মনি কানাডার টরোন্টো ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডক্টরাল প্রোগ্রামে অংশ নেন। এজন্য ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ছুটি নেন। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি।
আবদুল্লা আল মামুন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করতে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি নেন। ছুটি শেষে ওই কর্মকর্তা আর কর্মস্থলে যোগ দেননি।
মোছা. রাহানুমা তাজনীন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে অধ্যয়নের জন্য ২০২১ সালের ১ অগাস্ট থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে তিনি দেশে ফেরেননি।
মফিজুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডয়ায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস কোর্স পড়তে যান। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি নেন তিনি। ছুটি শেষে আর দেশে ফেরেননি।
আর শিরাজী তারিকুল ইসলাম ২০২২ সালের ১২ মে থেকে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।