Published : 24 Mar 2026, 12:25 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হওয়া শতাধিক অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সেই বিশেষ কমিটি প্রথম বৈঠকে বসেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ১৩ সদস্যের এ কমিটির বৈঠক শুরু হয়।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত ১২ মার্চ সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
বৈঠকে প্রবেশের আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, “কোনো অধ্যাদেশ যেভাবে গ্রহণ করা যায়, কোনোটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনোটার ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।”
তার ভাষ্যে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু রয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে।
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা আমরা ধারণ করব। যেমন কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেখানে জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে বা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিষয়ে ইনডেমনিটির বিষয় আছে; এগুলো আমরা গ্রহণ করব।”
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ও সহজে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বিশেষ কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে হবে।
“অধিবেশন ১২ তারিখ বসেছে, আবার ২৯ তারিখ বসবে। এর মধ্যে যে সময় আছে, সেই সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে।”
এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল। সংসদে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, ২ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনেই এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না। এ কারণেই এগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ আবার সংসদ বসবে এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন। কমিটির সদস্যরা হলেন, ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-১ আসনের সালাহউদ্দিন আহমদ, বরগুনা-২ আসনের মো. নুরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুব উদ্দিন, জয়পুরহাট-২ আসনের মো. আব্দুল বারী, পঞ্চগড়-১ আসনের মুহাম্মদ নওশাদ জমির, নাটোর-১ আসনের ফারজানা শারমীন পুতুল, রাজশাহী-১ আসনের মো. মুজিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের রফিকুল ইসলাম খান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি এম নজরুল ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ১২ মার্চ। ওই দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, শোক প্রস্তাব এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনসহ একাধিক কার্যসূচি ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন, গণভোট, সাইবার সুরক্ষা, পুলিশ কমিশন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও।