Published : 26 Sep 2024, 09:10 PM
বাংলাদেশে গত একদিনে এইডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৩৮৪ জনে।
সেইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে; ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬৩ জন, ঢাকা বিভাগে ১৬১ জন, ময়মনসিংহে ২৩ জন, চট্টগ্রামে ৯১ জন, খুলনায় ৭৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪ জন, রংপুর বিভাগে ২৩ জন, বরিশালে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে নতুন কেউ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।
গত একদিনে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ বছর ডেঙ্গুতে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১০০ জন মারা গেছেন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বছরের আগের যে কোনো মাসের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময় মৃত্যুও হয়েছে বেশি। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে সারা দেশে ১৪ হাজার ৫৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৯৩১ জন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৪৯৯ জন রোগী। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৪৩২ জন।
এ বছর ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৩১ জন ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো ভর্তি হন। ঢাকার দুই মহানগর এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হর ১২ হাজার ৫৩ জন।
এর আগে জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৫ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩৩৯ জন, মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। মার্চ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১১ জন; মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এপ্রিল মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০৪ জন, মারা গেছেন দুইজন।
মে মাসে ৬৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। জুন মাসে ৭৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মৃত্যু হয় আটজনের। জুলাই মাসে ২ হাজার ৬৬৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়। অগাস্টে ৬ হাজার ৫২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, এর মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
ডেঙ্গু সচেতনতায় বস্তিতে ৪২০ স্বেচ্ছাসেবী
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বস্তি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবী।
তাদের মধ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় যুক্ত রয়েছেন ৩০০ জন এবং আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের ১২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন।
তারা বস্তি এলাকায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতা তৈরি ও ডেঙ্গু রোগী খুঁজতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকার কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, বাউনিয়া বাঁধ বস্তি, কল্যাণপুর পোড়া বস্তিসহ ১৮টি বস্তিতে ডেঙ্গু রোধে করণীয় সম্পর্কে বস্তিবাসীকে সচেতন করেন।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “ইপিআইয়ের ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ডিএনসিসি এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইপিআই কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুর সন্ধান করেছে। এ সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাওয়ায় নিয়মিত এ কাজের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তারা মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তারা জ্বরে আক্রান্তদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
“একইভাবে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের ১২০ জন স্বাস্থ্যকর্মীও সচেতনতা তৈরি এবং ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান করছে। স্বেচ্ছাসেবীদের এই কার্যক্রম ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”