২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা, ইরানের নাম নেয়নি ঢাকা

“ইরানে হামলার পর দেশটিতে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2026, 08:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।

শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা  আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে দুইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতাও রয়েছেন। 

ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেণণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

বার্তা সংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক রসদ আছে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের ওই হামলায় বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক স্থাপনাও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন চার বাংলাদেশিও। আক্রান্ত দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে জরুরি সভা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের।

এদিন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। ওই বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর কথা বলেছেন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তার উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ ‘অগ্রাধিকার’ দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। আমরা চাই পরিস্থিতির অবনতি না ঘটুক। কূটনৈতিকভাবে সমাধান হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানিয়ে রোববারের বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরানে হামলার পর দেশটিতে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। 

“বাংলাদেশ সাবধান করে দিতে চায়, সংঘাত চালিয়ে গেলে তা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জনগণের সমৃদ্ধিকে বিপন্নই করবে। সর্বোচ্চ সংযমের চর্চা এবং মতপার্থক্য দূর করতে কূটনীতিতে ফেরার জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।”

এরপর দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “শিগগির পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠবে এবং ওই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।”

ইরান-মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: প্রবাসীদের খোঁজ-খবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: প্রবাসীদের নিরাপত্তাই 'অগ্রাধিকার', বলছেন উপদেষ্টা

প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাতে হবে