Published : 08 Jun 2026, 08:07 PM
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির এমপি আখতার হোসেন।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।
সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার বলেন, গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের বরাদ্দ ‘শুধু সরকারি দলের’ সংসদ সদস্যদের আসনে দেওয়া হয়েছে।
“দুর্যোগগুলো যখন আসে তখন কিন্তু সরকারি দল, বিরোধী দল দেখে আসে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম ৩০ এপ্রিলের বরাদ্দ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে।”
বিরোধী দলের আসনগুলোর জন্য সমতাভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে-তা জানতে চান আখতার।
জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, জেলা প্রশাসকদের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ এবং জিআর রাইসের বরাদ্দ দেওয়া থাকে। টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
“আমার মনে হয় কাল-পরশুর মধ্যে ওনারা (বিরোধী দলের সদস্যরা) ওনাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।”
এ সময় স্পিকারও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বলেন, “আপনারাও পেয়ে যাবেন।”
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ২৫ লাখ টাকা এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
“এছাড়া কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিকটন চাল ও ২০ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের ডিও এবং স্থানীয় চাহিদার আলোকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়।”
এ দিন কক্সবাজারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চান কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। জবাবে মন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সরকার নিয়মিত সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে। বিশেষ বরাদ্দের বিশেষ আবেদন থাকলে সেটা আমরা বিবেচনা করব।”
টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী তার নির্বাচনী এলাকায় সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা চান।
জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিলাবৃষ্টিতে প্রচুর গ্রামের মানুষের টিনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর রিপোর্ট আমরা সংগ্রহ করেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢেউটিন কেনার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বর্তমানে নতুন করে ঢেউটিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে।
“আমরা হয়তো শিগগিরই টিন পেয়ে গেলে যেসব অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির কারণে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ঢেউটিন দিয়ে সহায়তা করব।”