‘স্নাইপারের অভাব ছিল’: সেই যুবকের ‘স্বীকারোক্তি’
আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি সংবলিত ফেইসবুক পোস্টে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে রোববার সিদ্দিককে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই ইয়াছিন পাইক। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওয়াজেদ আলী জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে ২০ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন।
এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে ওই বাসে করেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে করে তিনি আবার শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ফিরে যান।
এদিকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়- “সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?”
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, “ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।”
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
