Published : 20 Jul 2026, 02:51 PM
কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনভূমির ইজারা দেওয়া জমি পুনরুদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন ‘অসাংবিধানিক, বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
‘জনস্বার্থে’ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৩ বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বেলার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আশরাফ আলী, তাকে সহায়তা করেন রুমানা শারমিন।
শুনানি শেষে আইনজীবী রুমানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি চকরিয়া সুন্দরবন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত। সংরক্ষিত ও রক্ষিত—এই দুই রকমের বন নিয়েই আমাদের মামলাটি ছিল। এখানকার মোট আয়তন ২১,২৪৫ একর।”
ওই জমিতে ‘অবৈধভাবে’ বেশ কিছু লিজ দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করে এ আইনজীবী বলেন, “এটি অবৈধ এই কারণে যে, এলাকাটি রিজার্ভ ফরেস্ট (সংরক্ষিত বন) হিসেবে ঘোষিত থাকা সত্ত্বেও তা অবমুক্ত না করেই লিজ দেওয়া হচ্ছিল। লিজ দেওয়ার অনেক বছর পর এটিকে ডি-রিজার্ভ (অবমুক্ত) করা হয়।
“সংরক্ষিত বন অবমুক্ত করার আগে কীভাবে লিজ দেওয়া হয়, আমরা মূলত আদালতের কাছে এটাই চ্যালেঞ্জ করেছি। এই কারণেই লিজগুলো অবৈধ এবং এর ওপর ভিত্তি করেই আদালত রুল জারি করেছেন।”
রুমানা বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলাম, তবে আদালত তা দেননি। আমরা চেয়েছিলাম যারা লিজ গ্রহীতা ছিলেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং চকরিয়া বন কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায় সেটির একটি রেস্টোরেশন (পুনরুদ্ধার) প্ল্যান যেন বিবাদীরা আমাদের দেয়। তবে এই আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়নি।”
রিট আবেদনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে একটি রুল জারির আরজি জানানো হয়েছিল।
একইসঙ্গে ওই সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনের সব ‘অবৈধ’ ইজারা ও বরাদ্দ বাতিল করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং চকরিয়া সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলের বনভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছিল।
আবেদনে বলা হয়, ১৯৮৫ সালের ২১ মে এবং ২১ নভেম্বরের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চকরিয়া সুন্দরবনের জমি বরাদ্দ বা ইজারা দেওয়ার পদক্ষেপ ছিল ‘বৃহত্তর জনস্বার্থের পরিপন্থি’ এবং এটি বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত অন্যান্য পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।
রিট মামলায় বলা হয়, প্রকৃতি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশ রক্ষা করা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ করা বিবাদীদের ‘বিধিবদ্ধ দায়িত্ব’। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উপকূলীয় মানুষদের রক্ষা করতে এবং বন ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ‘সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি’।